Thursday, December 4, 2014

তুমি কে ? আমিই বা কে ?
এটুকু জানতে কেটে গেলো এক জন্ম !
জাতচক্র বিচারের পর, জানা গেলো, আয়ুখাদক হিসেবে তার পরিচয় !
লগ্নপতি মিডিয়াশাসিত, দ্বিতীয় দ্রেক্কান তার পুলিশকবলে, নবাংশ চাটুকারবৃন্দ দ্বারা
ক্লেদময়, নবমস্থানের অধিপতি রাহু দৃষ্ট
পঞ্চম শনিপীড়িত, এখানেই শেষ
হলে, তবু কিছুটা বাঁচোয়া !
দেখা গেলো, ভয়ঙ্কর কালসর্পযোগ
আর কর্মাধিপতিও দুর্বল, নিস্পৃহ !
গুরু মারক হয়েছে, ফলে, তাকে বাঁচাবার নেই
কেউ, কেতুর প্রতাপে সে আয়ুখাদক
নিজ আয়ু খেয়ে, তাকে যেতে হবে এক
সমাপতনের দিকে, এই
তথ্য জেনে বিচলিত হবার কারণ
কারও নেই, দশা-অন্তর্দশা বিচারের পর ,তাকে
বলা হয়, যাও, মরণ যখন আসে
গলায় পরিয়ে দিও অস্থিচূর্ণমালা

জাতচক্র পাঠ শেষ হলে সম্পর্কের
মত নেশাচ্ছন্ন তোমাকেই দেখি, ছাদে
দাঁড়িয়ে গুনছো তারা, দূর আকাশের
হলুদ আমার প্রিয়, তোমার সবুজ
দুজনেই চিরকাল ছিলাম অবুঝ !
দুপুরের গাড়ি আসে আসঙ্গ-লিপ্সায়,
কলতলা মেতে ওঠে অবৈধ কিচ্ছায় !
বিকেলে ছাদের আলো নিভে এলে ক্রমে
তোমাদের মেহফিল উঠেছিলো জমে !
রাত নামে শরীরের উষ্ঞ সরোবরে,
তুমিও সাঁতার কাটো তোলপাড় করে !
দিন যায় প্রাত্যহিক রুটিনে অভ্যাসে,
তুমি তাকে ধরে রাখো ক্যানভাসে !
তরুণ আগুনকথা তুমি লেখো আর,
আমি পড়ি নদীটির নিঃস্ব হাহাকার !
সবুজ তোমার প্রিয় বলেছিলে জুনে,
তোমাকে লিয়েছি তাই এপরিলে চুনে !
<মৃত্যুর প্রতি>
সকল দরোজা বন্ধ করে আমি তোমার দরোজা খোলা রেখেছি...
মরা নদীটির ঢেউ এসে তোলপাড় করে
মরুভূমিটির বালি, না কি তাও নয় ?
মরুভূমিটিকে কাছে টেনে নিয়ে গেছে ঢেউ,
গোপন প্রণয় ছলে, বোঝেনি তা কেউ !
বালি ওঠে প্রাণে জেগে ক্রমাগত জলে
জলের আগুন ডাকে ঝাঁপ দাও বলে !
না কি সে ডাকেনি তবে পূর্ণিমার রাতে ?
রাত্রি তাকে ডেকে গেছে অসহায় হাতে !
ঝাঁপ দেয় তবু কেউ তথাগত দিনে,
মরা নদীটিও জানে, এ বাঁধন ঋণে
জড়িয়ে রয়েছে বালি, চরাচরহীন
জোছনায় আজ ডুবে মরবার দিন !
ভাঙা আয়নার কাচ, কার মুখ রেখেছো ধরে ?
পরজন্ম, তুমি অন্তত ফিরিয়ে দিও না খালি হাতে !