Thursday, August 6, 2015

সিঁড়ি ভাঙা অংকটির কথা মনে আছে ?
আজ মনে হয় সেই অংকটি, জীবন, তুমি !
দু' লাইন লেখো, এর বেশি
তোমার মুরোদ নেই, কবি, রাত জেগে
বন্যাত্রাণে গিয়েছ কখনও ?
ডুবে যেতে যেতে শিশুটিও
আঁকড়ে ধরেছে যার গলা, সেও এক
মৃত নারী, ভেসে গিয়েছিল প্রবল জলের তোড়ে
অথবা সে বৃদ্ধ, যাকে ফেলে চলে গেছে
তার ছেলেমেয়ে, ডালে বসে
প্রতীক্ষা করছে ত্রাণশিবিরের নৌকো,
আর্ত মানুষের কাছে দাঁড়িয়েছ আগে ?
দাঁড়াওনি ! কি হবে তা হলে এই সব
লিখে ? মাঝরাতে, ঘুম ভেঙে গেলে
চেয়ে দেখো, তুমি নও, তোমার বদলে
আর কেউ লিখে যাচ্ছে অর্থহীন প্রেমের কবিতা !
তাকে বলো, প্রেম নয়, মাঝে মাঝে প্রয়োজন হয়
আর্ত মানুষের সঙ্গ, তাদের বেদনা
আর দীর্ঘশ্বাস থেকে উঠে আসা নগ্ন অভিধান !
জল এসে ধুয়ে দিল বুঝি অন্তর্যাম !
জলের অক্ষরে লেখা তোমার সে নাম
মুছে গেছে তার সঙ্গে, বাকি থেকে গেছে
কিছু চিহ্ন, সুড়ঙ্গলালিত,
লালায় জড়িত আমাদের চুম্বনকাহিনী ।
বিছানার নিচে রাখা সে সব কাহিনী
উই পোকা খেয়ে গেছে প্রবল বর্ষণে ।
রোদে মেলে দিয়ে দেখি কিছু নেই বাকি,
আসলে কি তাই ? তোমার গন্ধের মোহ
লেগে আছে পোকা-কাটা চিঠির অক্ষরে ।
একটি কথাও আর নয় । দেয়ালের কান আছে ।
চারদিকে গুপ্তচর । আমরা এখানে
একটা মিশনে এসেছি । সফল হোক
আগে । তারপর ভাবা যাবে ।
সঙ্কেত খেয়াল রেখো, তিন আর পাঁচ,
মাঝখানে চার নেই । মাঝথানে শূন্য ।
তিন আর পাঁচ মানে যোগ, না কি গুণ ?
মিলছে না ? আরোহী পদ্ধতি মনে আছে?
তার উল্টোদিকে সে রয়েছে ।
গুপ্তধন সহ । কি দেখছো ? ঐ যে, তালা ! পাঁচ থেকে তিন বাদ দাও ।
থাকে দুই । তালাটির ম্যাচিং নম্বর পেয়ে গেলে ?
এবার মিশন শুরু করো ।
মনে রেখো, মিশন সফল হলে হনিমুন ট্রিপ ।

Tuesday, May 5, 2015

ঈশ্বরের সঙ্গে পুনরায় দেখা হলো আজ, মন্দিরের গেটে, ভিক্ষাপাত্র হাতে বসে আছেন তিনি ! তার মুখে অন্ধকার, অথচ পায়ের কাছে এসে পড়েছে মন্দিরের আলো !
তাকে দেখে, এগিয়ে যাই, বলি, আপনি ? এখানে ? এভাবে ?
একটু লজ্জা পেলেন যেন, বললেন, এখানেই তো আমার ঠাঁই ! 
তাহলে, ঐ মন্দির...
কথা শেষ করতে দিলেন না তিনি, ওখানে তো কিছু মূর্তি, আর কিছু নির্বোধ লোক ! মন্দিরে আমার ঠাঁই নেই !
কোনো কথা বলতে পারি না, তাকিয়ে থাকি ঈশ্বরের দিকে, বহুদিন স্নান করেননি, উস্কুখূস্কু চুল, চোখে পিঁচুটি !
বললেন, একটা সিগারেট দেবে ?
যৌনতা আনন্দের, তা হয়ে থাকে নারী ও পুরুষের সম্মতিতে, অর্থাত্, যৌনতা শুধু শরীরের দাবি নয়, মনেরও ! 
এই সামান্য কথাটিও যারা বুঝতে নারাজ, তারা পশুরও অধম ! এক পশুও তার সঙ্গিনীর সম্মতি ছাড়া সঙ্গমে লিপ্ত হয় না কখনও !
এই উপমহাদেশে, যেহারে ধর্ষণ বেড়ে চলেছে, তা উদ্বেগের ! এর পেছনে সোসিও-সাইকো কোনো বিষয় আছে কি না আমি জানি না, গবেষকগণ বলতে পারবেন তা ! প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলে খানিকটা হয়তো প্রতিরোধ করা যেতে পারতো, তাও সম্ভব হচ্ছে না, যারা ধর্ষকের ভূমিকায়, তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের লোক, ফলে প্রশাসনও এ বিষয়ে, প্রায় ক্ষেত্রে, নীরব দর্শক হয়ে থাকে !
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে সম্পত্তি ব্যতীত আর কিছুই ভাবা হয়নি, পরিণামে, তাদের উপর নেমে এসেছে মনুসংহিতা থেকে হাদিস, এগুলি যে পুরুষের কায়েমীস্বার্থে রচিত, এ বিষয়ে কারও সংশয় থাকা উচিত নয় !
নারীর পায়ে শিকল পরিয়ে রাখার জন্য পুরুষরচিত এই সকল নির্দেশাবলী অমান্য করতে না পারলে নারীর মুক্তি নেই, আর ততদিন নারীকে যৌনদাসী হিসেবেই দেখবে পুরুষ
আমার এক মাস্টারমশাই তার নামের আগে এবং পরে অনেক শব্দ জুড়ে দিতেন তার নেমপ্লেটে ! নামের আগে দিতেন পণ্ডিত, পরে কাব্যশাস্ত্রী, বিএ অনার্স, বিটি, এমএ (কলি)ইন সংস্কৃত, এমএ (বিএইচইউ) ইন ইংলিশ বিএড...
এটা মূলত নিজেকে জাহির করা, মাস্টারমশাই এই দেখনদারি খুব পছন্দ করতেন !
এখনও এটা আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে, লক্ষ্য করলেই দেখবেন, কেউ কেউ নিজের নামের আগে 'কবি' লিখছেন অম্লানবদনে ! কেউ আবার সাহেবিয়ানা মতে, Poet.
আমার মাস্টারমশাই উদ্বাস্তু ছিলেন, ভাবতাম, তিনি এসব করতেন ঐ উদ্বাস্তু মানসিকতা থেকে, যাকে আমরা বলে থাকি আইডেনটিটি ক্রাইসিস, নামের আগে কবি বা পোয়েট লিখে কি এই ক্রাইসিস থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় ?