Friday, August 29, 2014

কোনো যোগ্যতা নেই, বলে, কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম ! হায়, তখন কি জানতাম, এ যে দাবাখেলার চেয়ে কঠিন, এভারেস্ট অভিযানের চেয়ে বিপদসংকুল !
কবিতা দাবি করেছিলো আমার জীবন, দিয়েছি ! দাবি করেছিলো মগ্নতা, মগ্ন হয়ে দেখেছি, কবিতা আসলে পাশের বাড়ির সেই নারী, যাকে জানালা দিয়ে দেখি, ছোঁয়া যায় না !
কবিতাপ্রেমিক হয়েই এ জীবন কেটে গেলো, কবিতাকে স্পর্শ করতে পারলাম কই ?

এ জানলে, আর যাই হোক, এ লাইনে পা দিতাম না !
মরণও যাকে অপছন্দ করে, সে আমিই...তবু, কবিতা, তোমার জন্য এই জীবন...

মনে রেখো...
ঈশ্বর কোথায় থাকেন ?
তার বিরুদ্ধে আমার অনেক নালিশ !

জানি, আমার বিরুদ্ধেও তারও অনেক অভিযোগ আছে !
আমি তার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছি !

তিনি যদি বিদ্যমান হতেন, আমাকে নিশ্চয় ঘোড়ার সহিস করে পাঠাতেন, এভাবে ফেসবুকার হয়ে জীবন কাটাতে হতো না !
ঘোড়ার সহিস হলে, কবিতাকে বলতাম, চলো, বেরিয়ে পড়ি ! সময়ের ইন্তেকাল দেখে আসি !
নীরব এই রাত্রি একা কাঁদে...
তার অশ্রু, লোকে ভাবে, ভোরের শিশির...
আজ কি বার ?
মনে আসছে না কেন ?
কাল কি মদমত্ত ছিলাম ?
মদ ? সে আজকাল ছেড়ে দিয়েছি !
তাহলে ?
আজ কত তারিখ ? এটা কি সেপ্টেম্বর ? নাকি আশ্বিন ?
সব গুলিয়ে যাচ্ছে কেন ?

এই যে, দাদা, উঠে পড়ুন, আর কত ভ্যানতারা করবেন ! এবার চেম্বার বন্ধ করতে হবে ! রাত হয়ে গেছে !

রাত ? রাত মানে তো জেগে থাকা, অসহ এক নিঃসঙ্গতা নিয়ে !
জেগে থাকি কেন ? আমি কি রাতের পাহারাদার ?

গতজন্ম হাসে, বলে ওঠে, অভিশপ্ত পুরুষ ! আরও তিনজন্ম অভিশাপ জর্জরিত থাকো !
রহস্য থেকেই গেলো, কেবল পাতা উড়ে গেছে কাহিনী থেকে...

রাস্তা পার হতে গিয়ে, দেখি, অন্ধ লোকটির মতো
আমিও দাঁড়িয়ে আছি
আগুনের উপর...

একে কি জীবন বলে ?
ধর্মশাস্ত্র, নিজেই জানে না...

পাতা ঝরে যায় শীতকাল জুড়ে...
জেগে ওঠো প্রাণ...
আয়নার ওপার থেকে এসো
প্রতিবিম্বহীন পায়ে...