Tuesday, November 25, 2014

স্মিরনফ, অবসরপ্রাপ্তদের তুমি
দু-গেলাস স্বপ্ন আর ঘুম
দিও রোজ, দিও প্রাণময় শব্দগুলি
বিপ্লব এখন পেটেন্ট, তোমার মত
ঠিকেদারদের হাতে পতাকা উড়ছে
স্মিরনফ, বিপ্লবের কেউ নও তুমি
তবু মিছিলের শেষে তুমি
স্বপ্নবিক্রেতার ছোটভাই
তুমিই পলিটব্যুরো, আমাদের একক হাইকমাণ্ড !
বি পজিটিভ !
কথাটি যারা বলে, তাদের প্রতি একটি নিতান্তই শাদামাটা প্রশ্ন : পজিটিভ না হলে কেউ স্বপ্ন দেখে নীল আকাশের ? ঐ আকাশ হাতের মুঠোয় ধরার ?
সন্ধ্যার আঙুলগুলি রাঙা,
ঠোঁটের মতন,
চুলে গুঁজে এসেছে নক্ষত্র,
মনে হচ্ছে ফুটে আছে যূঁই
বিকেলের বুকে মুখ গুঁজে
সে অভিমানিনী, তার অশ্রু দিগন্তের কুয়াশা হয়েছে,
ঐ কুয়াশা পার হয়ে আজ
তরুণ কবিটি চলে যাচ্ছে
খ্যাতি নামে মেয়েটির কাছে !
তাকে ভুল বোঝো না, পাঠক !
অবসর
দু-একটা আসন ও প্রাণায়াম, প্রাতঃরাশ, আর
বাজারের ব্যাগ হাতে, ঐ যে,
বেরিয়ে পড়া, এটুকু কাজ
ফিরে এসে, ফেসবুক, আত্মীয়স্বজন,
আত্মীয় কে ? প্রশ্ন থাক ! সকালের কাগজ বা,
দু-একটা ফোন, তা মূলত
ইনস্যুরেন্স ও ব্যাংক থেকে আসে, ঋণের তাগাদা
ঋণে ঋণে কেটে গেছে এ জীবন, বাকি গণিতবিহীন এই অবসর, যাকে
অর্পণ করেছি শেষ ভালোবাসা, কবিতার মত
পাঠ করি রোজ
তারপর হাতে নিই শূন্য ধারাপাত !
অবসর
'কি করে কাটান দিন ? এই অবসর ?'
'পিঠের ব্যথায়, পানে পানে,
তরুণী বান্ধবীদের রিক্ত কলরবে !'
কৃষ্ণরূপ দেখেছিলো দুজনেই, রাধা ও অর্জুন,
দুজনেই জেনেছিলো অহম্ মূলত
প্রকাশিত হয় কৃষ্ণরূপে !
কৃষ্ণ নয়, আমি মজে আছি নীলে, ফলে,
আকাশ ধরেছি আজ হাতের মুঠোয় !
অপরাজিতার মত ফুটে ওঠে আমার অহম্ !
ব্রজভূমি, কুরুক্ষেত্র সব
মিলিয়ে গিয়েছে আকাশসঙ্গীতে, নীলে ...
নীলরূপ দেখে মজেছিলো আর এক
বিবাগী পুরুষ, রাধা নামে ছেড়েছিলো সংসার,
সমুদ্র ডেকেছে তাকে, সাক্ষী নীলাচল
তুমি তার কেউ নও, কেবল পাঠক
প্রতিটি অক্ষরে লেখা থাকে তবু তোমারই নাম !
যাকে ফেলে গিয়েছিলে পথে
সে আজ এসেছে ফিরে এই সন্ধ্যেবেলা,
মনে পড়ে তাকে, ওগো শ্রীগোপাল লেন ?