Friday, November 1, 2013

আমার অস্তিত্ব জুড়ে আছো তুমি, ওগো দীর্ঘশ্বাস...
মিহি ঠাণ্ডা পড়ে গেছে অন্তর জুড়িয়া । তাহাতে মরিল সখা অনলে পুড়িয়া ।।
একদিন এই পৃথিবীই থাকবে না । সূর্য থাকবে না । চন্দ্র থাকবে না । এই বায়ুমণ্ডল থাকবে না । এবং আমরাও পোদ্দারি করার জন্য থাকবো না কেউ । তখন ? ক্ষমতা, কাঁটাতার, লেখা, গান, ছবি, ভালোবাসা, ঘৃণা, লোভ, ঈর্ষা, মোহ, কাম, মাত্‍সর্য, গীর্জা, মঠ, মসজিদ বা মন্দির, পার্লামেন্ট, বেশ্যালয়, পানশালা, প্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রম, থানা, জেলখানা কিছুই থাকবে না তখন । যদি সত্যিই এইই হয় সুদূর ভবিষ্যতে, তাহলে, এইসব তত্‍পরতার কোনো মানে আছে ? এই নিরীহ ও অমোঘ প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে, বিশু পাগলা তার চটের আচ্ছাদন খুলে ফেলে দিয়ে, ডান হাতের চেটো কপালে রেখে, যেন সে তার অদৃশ্য কমাণ্ডেণ্টকে স্যালুট করছে, বলে ওঠে, আসলে সব আত্মরতি । জাস্ট মাস্টারবেশন করে যাওয়া । নাথিং মোর ।
একদিন এই ফেসবুক ছিলো না, ইন্টারনেট ছিলো না, কমপিউটার ছিলো না, আরও কতকিছুই ছিলো না এই জগতে । না থাকার অনেক অসুবিধে ছিলো, আবার সুবিধেও ছিলো তখন । আজ, মনে হয়, এত কিছু সহজে পেতে পেতে, আমরা ভুলে গেছি ঐ সব কথা, আমাদের শৈশব, কৈশোর, তার আদিম সরলতা । ভুলে গেছি, সেইসব বিকেলগুলি যা হাডুডুর মাঠে ফেলে এসেছি কবে । নৌকো নিয়ে পালিয়ে যাওয়া হিমরাত, বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের ত্রাণে ছুটে বেড়ানোর কথাও এখন আর মনে পড়ে না খুব একটা । এখন দেখি, পিঠে ব্যাগ নিয়ে শৈশব ও কৈশোর হারানো ছেলেমেয়েরা ছুটছে টিচারের বাড়ি । যেতে যেতে তাদের পথ মগ্ন থাকে মোবাইলে আর ফেসবুকে । তারা জানে না গ্রন্থাগারের পথ । পরীক্ষায় মার্কস তুলতে গিয়ে তারা যোগ দিতে পারেনি সৃষ্টির আনন্দে । বা তাদের অভিভাবকগণ বারণ করে রাখেন এসব থেকে । ফলে, ভাষার মহিমা উপলব্ধি করতে পারে না তারা । আধুনিক ইলেক্ট্রণিক জগত, ইন্টারনেট বা ফেসবুক যা কেড়ে নিয়েছে এবং যা দিয়েছে তার হিসেব কোনোদিন হয়তো নেবেন কেউ । কিন্তু ভাবী প্রজন্মকে দেখে আতংক ছাড়া আমার আর কিছুই হয় না ।
আমি মরে গেলে এই জগতের একটি ধুলিকণাও নড়বে না, একটি গাছের পাতাও পড়বে না ঝরে । যে যেমন ছিলো, যা যেমন ছিলো, তাই থেকে যাবে । সূর্য তার প্রথামত আপন কক্ষপথে থাকবে । গ্রহতারা সহ চন্দ্রালোকিত আকাশ তেমনই থাকবে । আর খুশি হবে অধিকাংশই, বলবে, বাঞ্চোত্‍ মরে গেছে ? যাক, বাঁচা গেলো । জ্বালিয়ে মারছিলো এতদিন ! তাদের ঐ খুশি দেখে, যদি আত্মা বলে সত্যিই থাকে কিছু, তাহলে, আমার ঐ আত্মা শান্তি পাবে খানিকটা । তবু, মরে গিয়ে, কাউকে তো খুশি করতে পারলাম । এই ইহজীবনে আমি কাউকে সুখি করতে পারিনি যে ! এতটাই অপদার্থ ও নিষ্কর্মা । বেজন্মাও বটে ।
মহাত্মা গান্ধী আর ইংরেজ শাসকের গোলটেবিল বৈঠক নয়, যা হলো খাওয়ার-টেবিল বৈঠক । প্রীতি আচার্য ও আমার মধ্যে । কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও হয়নি এই বৈঠকে । যা হয়েছে, তা আর কিছু নয়, কালীকৃষ্ণ গুহর পাঠবৃত্তে কালযাপন পাঠপ্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন । তা থেকে রবীন্দ্রনাথের নোবেলপ্রাপ্তি, বিবেকানন্দ, ঈশ্বরবোধ, মৌলবাদ, কবিতা, ভালোবাসাহীনতা, যৌনবোধ, হতাশা, কলকাতা এবং ফেসবুক পর্যন্ত এই বৈঠকের পরিসীমা । তৃতীয়পক্ষ নেই বলে, সিদ্ধান্তহীন বৈঠক পাক-ভারত বৈঠকে পরিণত হলো শেষপর্যন্ত ।
মহাত্মা গান্ধী আর ইংরেজ শাসকের গোলটেবিল বৈঠক নয়, যা হলো খাওয়ার-টেবিল বৈঠক । প্রীতি আচার্য ও আমার মধ্যে । কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও হয়নি এই বৈঠকে । যা হয়েছে, তা আর কিছু নয়, কালীকৃষ্ণ গুহর পাঠবৃত্তে কালযাপন পাঠপ্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন । তা থেকে রবীন্দ্রনাথের নোবেলপ্রাপ্তি, বিবেকানন্দ, ঈশ্বরবোধ, মৌলবাদ, কবিতা, ভালোবাসাহীনতা, যৌনবোধ, হতাশা, কলকাতা এবং ফেসবুক পর্যন্ত এই বৈঠকের পরিসীমা । তৃতীয়পক্ষ নেই বলে, সিদ্ধান্তহীন বৈঠক পাক-ভারত বৈঠকে পরিণত হলো শেষপর্যন্ত ।