Thursday, February 20, 2014

বার বার বলেছি, লেখক নই আমি, সে যোগ্যতা আমার কখনো নেই । লিখি, আত্মসন্ধানীর মত, নিজেকেই । একে লেখা বলে না, লেখা তো তা-ই, যা মিডিয়া চায়, প্রকাশক ছাপে, প্রতিষ্ঠান পুরস্কৃত করে এবং সব শেষে উঁইপোকা কাটে । আমার লেখা তা নয়, উঁইপোকা কাটার আগেই আগুনে তা পোড়ে, ধুলিতে তা মেশে এবং তার পাঠকও আমি । তবু কেউ কেউ ভালোবেসে দু এক পাতায় চোখ রাখে, কথা বলে মাঝে মাঝে । স্মরণযোগ্যতাহীন এই সব লেখার কদর করে যারা তাদের প্রণাম করি আজ । তারা যেন মনে না করেন, আমি লেখক । আবারো বলি, সে লেখক আমি নই । অথবা দালাল নই কারো । ভালোবাসা ছাড়া আমার পাবার কিছু নেই, চাওয়ারও নেই । মূল্যহীন থেকে, অনস্তিত্ব হিসেবে কাটিয়ে যাচ্ছি দিনগুলি, এভাবেই যেন মিশে যেতে পারি একদিন ধুলির সহিত । এটুকুই একান্ত প্রার্থনা ।
একদা, এইখানে রাজপাট চালাইতেন লিকাগণ । সে বহুদিন আগের কথা নয় । বৌদ্ধধর্মালম্বী এই লিকাগণ পরাজিত হন বোরো রাজবংশের থেকে বেরিয়ে আসা মাণিক্যদের হাতে । পরাজিতদের ধর্ম হইল, পুনরায়, রাজপাট দখল করিবার তীব্র বাসনাকে চাগাইয়া রাখা । ফলে, বারবার যুদ্ধ বাঁধিয়াছে এই জনপদে । আরাকানদের সহায়তায় লিকাদের এই প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে বারবার বোরোদের আগ্রাসী শক্তির কাছে । বাকিটা এখন ইতিহাস । ভুবনেশ্বরী মন্দির হয়ে ওঠে অমর এক মন্দির মূলত রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন নাটকের কল্যাণে । মাতাবাড়ী হয়ে ওঠে একান্নপীঠের এক পীঠ । যদিও শংকরাচার্যের মতে, একান্নপীঠের এই ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির কর্ণাটকেই অবস্থিত । বিতর্ককথা এড়িয়েই এই উদয়পুর আজ বিশ্বপরিচিত এক ক্ষেত্র । পর্যটকরা এখানে আসেন প্রাণের টানে । যদিও পর্যটনক্ষেত্র যেভাবে গড়ে ওঠে সেই পরিকাঠামো এখানে আজও গড়ে ওঠেনি তেমন করে । পর্যটক আসেন আর চলে যান, শহরের বাইশ দীঘী ক্রমে বুজে আসে । একদা রাজারা যে সুখজলায় নৌবিহার করতেন, আজ তা কৃষিজমিমাত্র । ২৫ বর্গ কিলোমিটারের এই জলা আজ স্মৃতিমাত্র । ভয় হয়, এই ক্ষেত্রটিও শেষপর্যন্ত স্মৃতির আড়ালে যদি চলে যায়, তাহলে কি হবে !
যদি স্রোতে গা না ভাসাতে পারেন, আপনার সমূহ বিপদ । যদি যো হুজুর হয়ে উঠতে না পারেন, তাহলে পদে পদে হেনস্থা । যদি আপনি স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে চান, আপনার পায়ে শেকল পরিয়ে দেওয়া হবে । দলে ভিড়ে যেতে না পারলে, ভুল করেও ক্ষতি ছাড়া আর কিছু আশা করবেন না । এই সকল হিতোপদেশ অনুধাবন করতে পারলাম সায়াহ্নে এসে ।
আমি ও মরণ, দুই সহোদর আজ বসে আছি সূর্যাস্তের শেষে... কোনো কথা নেই আমাদের, আছে শুধু নীরব প্রতীক্ষা....
মা কালীর দিব্যি, কবিতা আর প্রেম এখনও বোধগম্য হলো না আমার ! এ যেন রাষ্ট্রব্যবস্থার গোপন অভিসার...বলেই, জিভ কাটি, সত্যিই কি তাই ? না কি আরও কিছু ?
সত্য যে কি, তা বোঝা মুশকিল হয়ে ওঠে, যখন একটা গ্লাসের আর্ধেক জল আর আর্ধেক থাকে খালি । দু'পক্ষই ঠিক, অথচ দু'পক্ষই বেঠিক । মাঝখানে যে আলাদা একটি স্থান আছে, তা খেয়াল রাখে না কেউ ।
বাংলা সিরিয়্যালগুলিই কি বাঙালীর রুচির নমুনা ? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে, দুইখান কথা আছে । এক) বহিরঙ্গে বাঙালী আধুনিক হলেও মনেপ্রাণে এখনও ঊনিশ শতাব্দীতেই রয়ে গেছে । দুই) মিছিল মিটিং আর সিরিয়্যালসর্বস্ব বাঙালী যতই নিজেকে চেতনাসম্পন্ন বলে প্রচার করুক, আসলে সেই চেতনা কতখানি, তা বোঝা যায়, পরনিন্দার বহর দেখে । বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির মুগ্ধ একজন হিসেবে, কথাগুলি বলছি ।