Monday, March 16, 2015

প্রতিটি শব্দের মানে দুজনের কাছে দুরকম,
যে বলে, সে ভাবে, অর্থ হবে তার মত,
যে শুনেছে, তার কাছে ভিন্ন এক স্রোতে
অর্থ আসে, টানাপোড়েনের এই খেলা
অনেকটা হাডুডুর মত !
আসলে শ্রোতা ও কথকের এই খেলা
দর্শনাতীত রাত্রির, দিবসের নয়,

দিবস পুরুষ মাত্র, সে বোঝে না রাত্রির কুহক...
চুমু খেয়েছিলে তুমি মরণের ঠোঁটে ?
সেই থেকে লেগে আছে চাঁদের গ্রহণ !
আমাকে পছন্দ নয়, জানি,
আমার লেখাকে ?
কৌতুহল নিয়ে চেয়ে থাকি
আনত রেখাকে !
চুম্বনের পর তার ঠোঁট
সামান্য মাতাল !
দুটি হাতে কবিতার বই,
বিষণ্ণ চাতাল !
সদ্য প্রকাশিত এবারের
বইমেলা থেকে,
উন্নত ও দুটি বুক তার
রেখেছিল ঢেকে,
থর থর কেঁপেছিল তবু
পাতার আড়ালে !
জন্মভীরু, পেতে পারতাম
দুহাত বাড়ালে !
লজ্জা না কি ভয়ে দাঁড়িয়েছে
নিচু করে মুখ,
আমাকে পছন্দ নয়, জানি,
লেখাতে কি সুখ
পায়, সেই জানে, কিনে আনে
আমার কবিতা,
একান্ত পাঠিকা, দাবি করে
আধো আচম্বিতা
তরুণী সে, রেখা সুত্রধর,
দেখে, এই কবি !
মূলত লম্পট, কামাতুর,
বহিরঙ্গে ছবি
তার মুখোশের, যেন সন্ত,
ছত্রে ছত্রে ভান !
কিভাবে পছন্দ করে তাকে
সূত্রধর রেখা ?
লেখার আড়ালে এত যার
অন্তর্লীন দেখা,
লাগেনি মোটেও ভালো, তবু
কোনো এক ঘোরে
এগিয়ে দিয়েছে দুটি ঠোঁট
কালান্তক ভোরে !
প্রকৃত প্রস্তাবে কোথাও ছিলো না আলো,
করাতকলোনী থেকে উড়ে আসে চিঠি,
প্রেরক অজ্ঞাতনামা, সইহীন, ভাষা
চিরঅচেনা, রৈখিক, বহুবর্ণময়,
চিঠির প্রস্তাবে ছিলো ধনুকের ছিলা,
ইশারাসম্বল, শরযোজনার কথা
বুঝিনি প্রথমে, ফলে, নিম্নগামী জল
উঠে এসেছে শরীরে, ঊর্ধমুখে, তীব্র
দলীয় পতাকা হাতে আসে পংক্তিগুলি,
দল আসে, দাবি করে চিঠির নির্দেশ,
অবশ্য পালিত হোক মানব কল্যাণে !
যে মানব মিছিলের, প্রাণস্পর্শহীন !
চিঠি কি নির্দেশনামা ? আর কিছু নয় ?
সমূহ বেদনা নেই ? উপেক্ষার আলো ?
ঘনঘোর অন্ধকার ? ভ্রান্তিময় শব ?
প্রকৃত প্রস্তাবে তবে মিথ্যার দ্যোতনা ?
করাতকলোনী আজ শোক-মুহ্যমান,
ভাষার অন্তিম ক্রিয়া শেষে পড়ে থাকে
ছাইপর্ব, দীর্ঘ গোধূলির পাঠক্রম,
তাকে পাঠ করে আজ অন্ধ সে পাঠক !
1884-র 19 এপ্রিল বিয়ের (রবি ঠাকুরের) চার মাস পর আফিম খেলেন কাদম্বরী ! মারা গেলেন একুশে এপ্রিল সন্ধ্যাবেলা !
মৃত্যুর সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হলো ! ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস থেকে কাদম্বরীর নাম মুছে দেওয়া হলো ! কাদম্বরীর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ হলো ! চল্লিশটি বেশ্যালয়ের মালিক প্রিন্স দ্বারকানাথের পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ মহর্ষি টোডির কায়দায় ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করলেন কাগজের এবং পুলিশের ! ঠিক যেরকম সিপিয়েমের কায়দায় ব্রাহ্ম না হওয়ার জন্য হরিনাথকে ভিটেমাটিচাঁটি করে কাঙাল করে দিয়েছিলেন মহর্ষি জমিদার দেবেন্দ্রনাথ !
--মানুষের বাচ্চা ফতাস্/পৃ:430
আমি সৌভাগ্যবান, পারিবারিক ক্ষেত্রে আমার যেমন দুই মা, মাতৃভাষাও আমার দুটি, এই দুই ভাষা আমার স্বপ্নের দিগন্ত, বাস্তবের মাটি !
বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী এবং বাংলা, এই দুটি ভাষাই তার শহীদ সন্তানের জন্য এখনও নীরবে কাঁদে !
জন্মকাল থেকে, মা'র মুখে শুনে এসেছি, যমেরও অরুচি আমি !
ছেলেবেলায়, তা উপলব্ধি করিনি, এখন তা মর্মে মর্মে করি !
পরপর ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী তার সাক্ষ্য দেয় ! 1974 সালে আগরতলা থেকে শিলচর যাওয়ার পথে, লংতরাইয়ে বাস উলটে পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে গভীরতম খাদে ! আমার সহযাত্রী দুজন সহ ড্রাইভার ও আর একজন মারা যায় এই এক্সিডেন্টে !
যম আমাকে ঘৃণায় ফেলে রেখে যায় !
1975 সালে শিলচরে রেল লাইনে মাথা দিতে গিয়েছিলাম আশ্চর্য এক আবেশে ! না, সেবারও প্রত্যাখ্যাত !
তারপর তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করি, 1981, 1993, 2005 !
20টা ঘুমের বড়ি হুইস্কির সঙ্গে মিশিয়ে 1993 সালে খেয়ে দেখেছিলাম, তিনদিন পর জ্ঞান ফিরে এলে, দেখি, আমাকে ঘিরে প্রচুর লোকজন সহ আমার এক ভাইপো ডাক্তার ঝুঁকে দেখছে আমাকে !
2005-এ সিলিংফ্যান থেকে দড়ি ছিঁড়ে পড়েই গেলাম !
যম বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে আমাকে, যেভাবে ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিবার !
গত বছর, 12 ডিসেম্বর, আগরতলা থেকে ফেরার পথে, বাসস্ট্যাণ্ডে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই, আধঘণ্টা পর, এম্বুলেন্সে, জ্ঞান ফিরলো, মরে যেতে পারতাম, যদি যম সহৃদয় হতো !

গতরাতে, জ্বরের ঘোরে, যমের সঙ্গে দেখা হলো ! কেন তিনি আমার প্রতি এত নির্দয়, জানতে চাইলে, তিনি হেসে ওঠেন, বললেন, তোমাকে যে আরও অপমান সইতে হবে ! আরও নিঃসঙ্গতা !