Thursday, December 4, 2014

বলিতে বাধা নাই, খচ্চর প্রজাতির আত্মীয়তা অর্জন করিতে ফেসবুক অদ্বিতীয় !
শত্রুলাভ করিতেও ইহার জুড়ি নাই !
আত্মজ্ঞাপন করিবার এই মাধ্যমটি বিপ্লব ও জিগিরের প্রধানতম অঙ্গ বলিয়াও চিহ্নিত !
ইহার অন্তর্বাক্সটিও বারুদঘর, মাঝে মাঝে, বিস্ফোরণ যে হয় না, তাহা হলফ করিয়া বলিতে পারিবে না কেহ !
বারুদ থেকে মৌন কলরব, যৌনপিকনিক, সকলই ইহার প্ররোচনামাত্র !
প্রাতঃকালে ঈশ্বর ও আল্লাহ একসঙ্গে বসিয়া চা-পান করিতে বসিলে, গড আসিয়া তাহাদের বলেন, লেট আস এনজয় !
আমরা মনুষ্যজাতি তাহাদের মহিমা বুঝিতে পারি না, বলিয়া, ফেসবুক নমাজ ও আরতির সুবন্দোবস্ত করিয়াছে !
তরুণ কবি, ব্যর্থ প্রেমিক, অবদমিতা কিশোরী থেকে চল্লিশা বধূও ফেসবুককেই ত্রাণশিবির মানিয়া আত্মসমর্পণ করিয়াছে আধবুড়োদের সহিত !
ফলে, কর্তৃপক্ষকে এই ফেসবুক আপগ্রেড করিতে হইতেছে !
নীরবে সহিব সে আঘাত...
আকাশের নীল, তোমারই হাত ধরি'
বক্ষে ধরিব আজ সকল অবজ্ঞা...
রাত্রিরচিত নৈঃশব্দ মূলত আর্তসন্ত্রাস, যার
থাবা থেকে পরিত্রাণ পেতে
তুমি রচনা করেছো আহত আমাকে...
কাউকে বলিনি এইসব...
প্রথম ব্যক্তি : হাওয়া কোনদিকে বইছে ?
দ্বিতীয় ব্যক্তি : হাওয়া কোনদিক থেকে আসছে ?
তৃতীয় ব্যক্তি : হাওয়া কি আসলেই বইছে ?
চতুর্থ ব্যক্তি : হাওয়া দেওয়া হচ্ছে না তো ?
পঞ্চম ব্যক্তি : কোথাও ষড়যন্ত্র হচ্ছে না তো ?
ষষ্ঠ ব্যক্তি : প্রতিবাদ করতে হবে !
সপ্তম ব্যক্তি : পারমিশন ছাড়া ?
অষ্টম ব্যক্তি : কার পারমিশন ?
নবম ব্যক্তি : ন্যাকা ! জানো না, আমাদের পলিটব্যুরো আছে, হাইকমাণ্ড আছে, শীর্ষনেতৃত্ব আছে, চীন আছে, আইএসআই আছে, আমেরিকা আছে, সিআইএ আছে...
দশম ব্যক্তি : আঃ ! তোমরা থামবে !!!

তখনই তারা অনুভব করে, হাওয়া নয়, জলধারায় ভিজে যাচ্ছে তাদের মাথা ! উপরের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই, লক্ষ্য করে, এক উলঙ্গ শিশু ছাদ থেকে পেচ্ছাপ করছে তাদের মাথায় !
দুজনের দেখা হলো সূর্যাস্তের পারে,
এক যৌনউট আর খচ্চর-পত্নীর...
বেলা হয়ে এলো, তবু কোকাপণ্ডিতের
দেখা নেই, বলে ওঠে দুজনেই ! দূরে,
বৈতরণী, নীল এক মেঘখণ্ড ভেসে
যাচ্ছে অপসৃয়মান ছায়ার মতন !
তাহলে কি বৃথা যাবে এই সন্ধ্যাকাল ?
খচ্চর-পত্নীর মনে অনুশোচনার
তাপ বেড়ে ওঠে ক্রমে, পালিয়ে এসেছি
লোকালয় ছেড়ে, বৃথা হলো তবে সব ?
গলা উঁচিয়ে সে, যৌনউট, খচ্চরপত্নীকে দেখে
ঝাপসা চোখের দৃষ্টি, ভাবে, এত কাম
ছিলো তবে জলহীন কুয়োর গভীরে ?
প্রেম নয় ? তাহলে কি এই সন্ধ্যাপ্রেম
মূলত আমিষ ? উত্তেজনা নিভে গেলে
পড়ে রইবে কা র্বন -ডাই -অক্সাইড ?
সংজ্ঞা পালটে যাচ্ছে দ্রুত !
ডান হয়ে যাচ্ছে বাম, বাম সরে যাচ্ছে ডানে,
এখন মুখোশ হয়ে উঠছে প্রধান,
মুখ নেই কতকাল হলো !
এরকম দিনে তোমাকেও দেখি ফিরে
যাচ্ছো সূর্যাস্তের দিকে, একা !
হাতে সেই পুরোনো পতাকা,
ম্লান, শতচ্ছিন্ন !
যে শ্লোগান দিতে কিছুদিন আগে, আজ
তার অর্থ ব্যঙ্গ করে ওঠে,
বলে, চিন্তা নেই, বিপ্লব এসেছে ফিরে
মৃত কলোনীর সমাবেশে !
দ্রুত পালটে গিয়েছে সব,
সমাবেশ থেকে পথ, পোস্টারের ভিড়ে
খুঁজে যাচ্ছো কার দীর্ঘ মুখ ?
কার স্পর্শ ? কোন শান্ত ধ্বনি ?
একজন সন্ধ্যার সঙ্গীত,
অন্যজন রাত্রিভজনের !
দুজনের কাছে গিয়ে, দেখেছি, আহত
অশ্রু চোখের পাতার নিচে
দুজনেই ডেকেছিলো কাছে
হারানো নদীর মত অঘ্রাণের শেষে !
সতীনের মত দুই বোন
দেখায় মুদ্রার চোরাটান
শরীরের, নাভি থেকে উঠে আসা ধান
মেলেছে দুহাতে
কেতু-পুরুষের মত আরতিকে রেখে
রাহুর প্রবল টানে হাত রাখি
রতির ঊরুতে, কেঁপে ওঠে
দরোজা জানালা
ভূমিকম্প শুরু হলো বুঝি ?
আরতির আগে ?
দেয়ালের লেখা পড়েছিলে ?
স্তবসঙ্গীতের টানে ভুলে গেছো সব ?
ভরা নদীটিও মরে যায় একদিন
বুকে নিয়ে বালি
তেত্রিশ বা দশ নয়, সকল সংখ্যা
মুছে দিয়ে ঢেউ আসে জোরে
থেমে যায় স্তবগান, অন্ধ সামকথা !
ফিস ফিস করে
কথা বলে এ গলি ও গলি,
শোনোনি সে কথা ?
ডুবে যেতে যেতে নৌকোটিও
প্রশ্ন করে অভিজ্ঞ মাঝিকে !
মাঝি কি উত্তর দেবে ? মাল্লা
সহ সঙ্গীসাথী
আর এক নৌকার গলুই
ধরে উঠে যাচ্ছে উধাও বালির দিকে !
Like · ·
কাকচরিত্র জেনেছো
জেনেছো কি কাক-সম্মোহন ?
সকল পথের শেষে পড়ে থাকে ছায়া
প্রতিটি পথের বাঁকে শান্ত কাঁটাঝোঁপ
এটুকু জেনেছে মৃত গোধূলির মেয়ে,
আর জানে একা দীর্ঘশ্বাস !
নতুন কবি, আমি তোমার তরুণ ঘৃণায় উপচে উঠি....(জয় গোস্বামী)
কবি, দার্শনিক, শিল্পী ও সমালোচক
সকলেই রাজকৃপা লোভী,
কার্যত ভিখারি !
যারা হেঁটেছিলো
যারা বিরোধিতা করেছিলো
মুখরোচক সমালোচনা করেছিলো,
তারা সকলেই নমস্য !
কেন না, তারা সবাই নক্ষত্রলোকের লোক !

কোনো না কোনো দলের লোক তারা !
তারা জনগণ নয়, কেউ
কবি, শিল্পী, কেউ গায়ক বা অভিনেতা,
স্বাধীনতাকামী
তাদের প্রণাম করি আমি !
এই দেশ উজ্জ্বল হয়েছে তাহাদের
গভীর চিন্তায়
গুজরাটে, যে মেয়েটি নিজেকে বেঁচতে
চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে, তার
কথা ভাববার সময় পায়নি তারা
দুস্থ পরিবার তার, কাজ নেই কোনো,
মোদীর রাজত্বে এখন এ ছাড়া পথ নেই আর
মেয়েটি বলেছে...
সে জানে না, সারদাকাণ্ডের কথা, স্বপ্ন
ও সমাজ বদলের কথা,
ব্লকে ব্লকে দুর্নীতির কথা,
দলীয়করণ থেকে ভোটের বেপার
সে জানে, নিজেকে বিক্রি করে
তাঁর দুস্থ ও অসুস্থ পিতা ও মাতাকে
বাঁচাতেই হবে !
এই দেশ সত্যিই মজার !
স্বপ্নভূক কীট...
আজ একটি কথাও নয়,
আজ নীরবতা
পালন করছে এই দেশ !
যারা হেঁটেছিলো,
আর যারা হাঁটেনি কখনো,
নীরব হবার পালা এবার তাদের !

তুমি কার পক্ষ ?
প্রশ্ন করে ওঠে মৌনস্বর,
কার পক্ষ ? কার ?
জিহ্বা কাটা গেছে,
অন্ধ হয়ে আছে এই চোখ,
পক্ষ হবে কার ?
দল-উপদলে
শ্লেষ্মা, কফ, পূঁজ সহ পার্টির দলিলে
এটুকুই জেনেছে,
আমি ছাড়া সব
বেঠিক ও পূঁজির দালাল,
ষড়যন্ত্র, জানি, চতুর্দিকে !
আজ কথা নয়,
আজ চারদিকে নীরবতা,
হেঁটে ও না হেঁটে !
যারা হেঁটেছিলো
যারা হাঁটতে যায়নি কাল
মুখর নিন্দায়,
সকল ধিক্কার
তাহাদের সকলের প্রতি...
বলে ওঠে আজ
বৃত্তের বাইরে
থেকে, তিলে তিলে মৃতপ্রায়
গুর্জর-তরুণী !
মিছিলের পরে
কারা ছুঁড়েছিল ঢিল ? কারা ?
বলিলো তাহারা !
মাথা নাও গুণে,
তারপর দেখে নিও জুনে
ছেড়ে দেবো কবন্ধ বানিয়ে
আর জানো ইয়ে
মানে ঐ প্যারেড
করাবো অগাস্টে, কমরেড,
এখন জমানা আমাদের,
টো করলে, শালা, পাবে টের !
জানালা হাসছে,
অভিমানী গ্লাস, তার চোখে
জল, জিভ মেলে
ধরেছে সবুজ বাটি, টেবিলের বুকে !
এই দৃশ্য আগামী জন্মের
হৃদয় যেখানে
পণ্যের চেয়েও অতিপণ্য !
মৃত স্কুলমাঠ পেরিয়ে, ঐ,
ঐ যাচ্ছে চামচ, কাঁটাপৌষ,
পোশাকের হিম
ঝেড়ে ফেলে, আর এক পোশাকের দিকে !
1975 এর জরুরী অবস্থার পর স্বৈরাচারিণী ইন্দিরা গান্ধীকে সরাতে গিয়ে, বামপন্থীরা হাত ধরেছিলেন আজকের এই বিজেপির ! সিপিআইএম এর পার্টিদলিল ঘাঁটালেই, দেখা যাবে, তাদের কাছে সেসময় প্রধান শত্রু ছিলো এই স্বৈরাচারী কংগ্রেস !
পরবর্তীকালে, সিপিআইএম তাদের অবস্থান বদল করলেও, পুনরায়, রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস সরকার হঠাতে ভিপিসিং সহ বিজেপির হাত ধরে তারা !
পার্টিদলিলে প্রধান শত্রু চিহ্নিত করতেই তাদের লেগে গেলো পঞ্চাশ বছর !
সাম্প্রদায়িকতা না কি স্বৈরাচার ? এই প্রশ্নে পেণ্ডুলামের মত একবার এদিক একবার ওদিক করতে করতে, তারা নিজেরাই এখন দুর্নীতির অতল গহ্বরে, যেখান থেকে বেরুবার পথ জানা নেই আর ! ফলে, পরবর্তী পার্টিকংগ্রেসে ভুল নেতৃত্বের উপর যাতে আঘাত না আসে, তারই পাকা বন্দোবস্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে !
পরম সুবিধাবাদের উত্কৃষ্ট নমুনা এই দলই, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য স্ট্যালিনের সর্বগ্রাসীবাদ কাজে লাগাতে জুড়ি নেই এদের !
বেডরুম থেকে শ্মশান বা কবরে এদের পতাকা শোভিত না দেখলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন না !
পাড়ায় পাড়ায় এলসি অফিস, বুথ অফিস মূলত নজরদারির লক্ষ্যে !
মিথ্যা বলাতেও জুড়ি নেই এই দলের !

আজ মমতা যা হয়েছেন, সব এদেরই অবদান ! কাল যদি মোদিময় হয়ে ওঠে, এই রাজ্য বা পশ্চিমবঙ্গ, তাও এই সিপিআইএম-এর অবদান !
মাঠের বক্তৃতায় তারা বিজেপির বিরুদ্ধে আকাশবাতাস গরম করতে পারেন, এটা তাদের নির্বোধ অনুগামীদের সামনে নিজেদের বিপ্লবীয়ানা বজায় রাখার জন্য !
গেরুয়াকরণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে গিয়ে তারা ভুলে যান, সর্বত্র লালীকরণে মেতেছিলো তারাই !
জনকণ্ঠরোধে এই দলের সঙ্গে মোকাবেলা করা আর কোনো দলের পক্ষে সম্ভব নয়, ইন্দিরাকে তো জরুরী অবস্থা জারি করতে হয়েছিলো, এদের তা প্রয়োজন হয় না !
এই দল মোদীর আগ্রাসন রোধ করবে, এটা আর কেউ বিশ্বাস করবে, বলে, মনে হয় না !
আমাদের কাছে স্বৈরাচারী সরকার এবং সাম্প্রদায়িক সরকার দু-ইই সমান ! অর্থাত্, ডাঙায় বাঘ, জলে কুমীর নিয়ে আমরা আছি ! দল নয়, স্বৈরাচার বা সাম্প্রদায়িকতার প্রতিরোধ করতে হয় জনগণকেই, যে জনগণের কথা সকল পার্টি বলে থাকে, এই জনগণ সেরকম দলদাস নয়, ব্রেণওয়াশড নয় ! বরং এই দলদাসপ্রথাকেও ঘৃণা করে তারা, সচেতন এবং মুক্তিকামী তারা আর প্রার্থনা করে, ইয়ে হামারা দেশ হ্যায় ! গেরুয়া, সবুজ, লাল, শাদার দেশ নয়, বরং সাত রঙ-এর দেশ, শান্তির দেশ হয়ে ওঠুক !
কথা যখন ফুরিয়ে যায়,
আগুন যখন নিভে যায়,
তখন সে আসে
দু-হাত বাড়িয়ে, বলে, এসো !
তরতরিয়ে নেমে যাচ্ছো সিঁড়ি
সিগার থেকে বিড়ি
বগলে আধপোয়া দিশি
মালের শিশি
কেমন হলো বলুন দেখি প্রমথনাথ বিশী ?
-শক্তিপদ ব্রহ্মচারী
(স্মৃতি থেকে, ভুল হলে মার্জনীয়)
রাত জাগছে বিছানা, আর
টেবিলে নাইট ল্যাম্প, গ্লাস,
দেয়াল ঘড়ির শ্বাসে ভরে যাচ্ছে ঘর !
বস্তুত এসব দৃশ্য দেখে
জম্ম নেয় গান,
গানের ঐ সরগম খেয়ে
ফেলছে ঘরের নীরবতা !

উপমার দিন আর নেই,
বীমাহীন আয়ু বাড়ছে ফ্রিজের, তার
সবুজ মুছেছে টিকটিকি !
ঘরের দিন ও রাত্রি দেখে,
বোঝে না কিছুই !
একা, রচনাকুশলী স্বপ্ন
ঢুকে যাচ্ছে দীর্ঘ শীতের ভেতর...
জানো, কোথাও একটা ভাংচুর হচ্ছে...
সে কি এই অন্তরমহলে ?
বাক ও বিভূতি এলো এই সন্ধ্যাবেলা,
তার আগে সাপলুডো খেলা
খেলেছিলো শান্তাদির অন্ধকার ঘরে,
হার-জিত্ সব থাক পড়ে
বিছানা ভরেছে শুধু নীল সর্পবিষে
মই থাকে চিত্ হয়ে, বিভূতির নিচে,

দুপুরের খেলা শেষে বাক ও বিভূতি
এসেছে সন্ধ্যার ঘরে, হাতে জীর্ণ পুঁথি,
প্রাচীন উপমা সহ লক্ষ্মীধরকৃত
টীকা ও টিপ্পনিময়, ভীত
পুরুষের মত ধুকপুক ধুকপুক
গৃহ ময় আজ বাক-বিভূতির সকল অসুখ
জীর্ণ পুঁথি, সাপলুডো, শান্তাদির ঘর
তবুও অসুখে থাকে তারা পরস্পর !
শামুকজীবন শেষে পড়ে থাকে এক
খোলস, ভেতরে মাটি, শ্যাওলার মত
কিছু পাতা, পাতা বলতেই
এক সবুজ ডায়েরি যার কথা আমি
কোনোদিন বলিনি তোমাকে !
সকল কথা কি বলা যায় ?
এই যেমন, তোমাকে কখনও বলিনি
শামুকের স্বপ্ন, হেঁটে হেঁটে
একদিন চলে যেতে চেয়েছিলো
তোমার গভীরে...
তুমিই সে, শামুকজীবন বাদ দিলে
অর্থহীন হয়ে ওঠে পৃথিবীর দিনরাত্রিগুলি !
তুমি কে ? আমিই বা কে ?
এটুকু জানতে কেটে গেলো এক জন্ম !
জাতচক্র বিচারের পর, জানা গেলো, আয়ুখাদক হিসেবে তার পরিচয় !
লগ্নপতি মিডিয়াশাসিত, দ্বিতীয় দ্রেক্কান তার পুলিশকবলে, নবাংশ চাটুকারবৃন্দ দ্বারা
ক্লেদময়, নবমস্থানের অধিপতি রাহু দৃষ্ট
পঞ্চম শনিপীড়িত, এখানেই শেষ
হলে, তবু কিছুটা বাঁচোয়া !
দেখা গেলো, ভয়ঙ্কর কালসর্পযোগ
আর কর্মাধিপতিও দুর্বল, নিস্পৃহ !
গুরু মারক হয়েছে, ফলে, তাকে বাঁচাবার নেই
কেউ, কেতুর প্রতাপে সে আয়ুখাদক
নিজ আয়ু খেয়ে, তাকে যেতে হবে এক
সমাপতনের দিকে, এই
তথ্য জেনে বিচলিত হবার কারণ
কারও নেই, দশা-অন্তর্দশা বিচারের পর ,তাকে
বলা হয়, যাও, মরণ যখন আসে
গলায় পরিয়ে দিও অস্থিচূর্ণমালা

জাতচক্র পাঠ শেষ হলে সম্পর্কের
মত নেশাচ্ছন্ন তোমাকেই দেখি, ছাদে
দাঁড়িয়ে গুনছো তারা, দূর আকাশের
হলুদ আমার প্রিয়, তোমার সবুজ
দুজনেই চিরকাল ছিলাম অবুঝ !
দুপুরের গাড়ি আসে আসঙ্গ-লিপ্সায়,
কলতলা মেতে ওঠে অবৈধ কিচ্ছায় !
বিকেলে ছাদের আলো নিভে এলে ক্রমে
তোমাদের মেহফিল উঠেছিলো জমে !
রাত নামে শরীরের উষ্ঞ সরোবরে,
তুমিও সাঁতার কাটো তোলপাড় করে !
দিন যায় প্রাত্যহিক রুটিনে অভ্যাসে,
তুমি তাকে ধরে রাখো ক্যানভাসে !
তরুণ আগুনকথা তুমি লেখো আর,
আমি পড়ি নদীটির নিঃস্ব হাহাকার !
সবুজ তোমার প্রিয় বলেছিলে জুনে,
তোমাকে লিয়েছি তাই এপরিলে চুনে !
<মৃত্যুর প্রতি>
সকল দরোজা বন্ধ করে আমি তোমার দরোজা খোলা রেখেছি...
মরা নদীটির ঢেউ এসে তোলপাড় করে
মরুভূমিটির বালি, না কি তাও নয় ?
মরুভূমিটিকে কাছে টেনে নিয়ে গেছে ঢেউ,
গোপন প্রণয় ছলে, বোঝেনি তা কেউ !
বালি ওঠে প্রাণে জেগে ক্রমাগত জলে
জলের আগুন ডাকে ঝাঁপ দাও বলে !
না কি সে ডাকেনি তবে পূর্ণিমার রাতে ?
রাত্রি তাকে ডেকে গেছে অসহায় হাতে !
ঝাঁপ দেয় তবু কেউ তথাগত দিনে,
মরা নদীটিও জানে, এ বাঁধন ঋণে
জড়িয়ে রয়েছে বালি, চরাচরহীন
জোছনায় আজ ডুবে মরবার দিন !
ভাঙা আয়নার কাচ, কার মুখ রেখেছো ধরে ?
পরজন্ম, তুমি অন্তত ফিরিয়ে দিও না খালি হাতে !

Tuesday, November 25, 2014

স্মিরনফ, অবসরপ্রাপ্তদের তুমি
দু-গেলাস স্বপ্ন আর ঘুম
দিও রোজ, দিও প্রাণময় শব্দগুলি
বিপ্লব এখন পেটেন্ট, তোমার মত
ঠিকেদারদের হাতে পতাকা উড়ছে
স্মিরনফ, বিপ্লবের কেউ নও তুমি
তবু মিছিলের শেষে তুমি
স্বপ্নবিক্রেতার ছোটভাই
তুমিই পলিটব্যুরো, আমাদের একক হাইকমাণ্ড !
বি পজিটিভ !
কথাটি যারা বলে, তাদের প্রতি একটি নিতান্তই শাদামাটা প্রশ্ন : পজিটিভ না হলে কেউ স্বপ্ন দেখে নীল আকাশের ? ঐ আকাশ হাতের মুঠোয় ধরার ?
সন্ধ্যার আঙুলগুলি রাঙা,
ঠোঁটের মতন,
চুলে গুঁজে এসেছে নক্ষত্র,
মনে হচ্ছে ফুটে আছে যূঁই
বিকেলের বুকে মুখ গুঁজে
সে অভিমানিনী, তার অশ্রু দিগন্তের কুয়াশা হয়েছে,
ঐ কুয়াশা পার হয়ে আজ
তরুণ কবিটি চলে যাচ্ছে
খ্যাতি নামে মেয়েটির কাছে !
তাকে ভুল বোঝো না, পাঠক !
অবসর
দু-একটা আসন ও প্রাণায়াম, প্রাতঃরাশ, আর
বাজারের ব্যাগ হাতে, ঐ যে,
বেরিয়ে পড়া, এটুকু কাজ
ফিরে এসে, ফেসবুক, আত্মীয়স্বজন,
আত্মীয় কে ? প্রশ্ন থাক ! সকালের কাগজ বা,
দু-একটা ফোন, তা মূলত
ইনস্যুরেন্স ও ব্যাংক থেকে আসে, ঋণের তাগাদা
ঋণে ঋণে কেটে গেছে এ জীবন, বাকি গণিতবিহীন এই অবসর, যাকে
অর্পণ করেছি শেষ ভালোবাসা, কবিতার মত
পাঠ করি রোজ
তারপর হাতে নিই শূন্য ধারাপাত !
অবসর
'কি করে কাটান দিন ? এই অবসর ?'
'পিঠের ব্যথায়, পানে পানে,
তরুণী বান্ধবীদের রিক্ত কলরবে !'
কৃষ্ণরূপ দেখেছিলো দুজনেই, রাধা ও অর্জুন,
দুজনেই জেনেছিলো অহম্ মূলত
প্রকাশিত হয় কৃষ্ণরূপে !
কৃষ্ণ নয়, আমি মজে আছি নীলে, ফলে,
আকাশ ধরেছি আজ হাতের মুঠোয় !
অপরাজিতার মত ফুটে ওঠে আমার অহম্ !
ব্রজভূমি, কুরুক্ষেত্র সব
মিলিয়ে গিয়েছে আকাশসঙ্গীতে, নীলে ...
নীলরূপ দেখে মজেছিলো আর এক
বিবাগী পুরুষ, রাধা নামে ছেড়েছিলো সংসার,
সমুদ্র ডেকেছে তাকে, সাক্ষী নীলাচল
তুমি তার কেউ নও, কেবল পাঠক
প্রতিটি অক্ষরে লেখা থাকে তবু তোমারই নাম !
যাকে ফেলে গিয়েছিলে পথে
সে আজ এসেছে ফিরে এই সন্ধ্যেবেলা,
মনে পড়ে তাকে, ওগো শ্রীগোপাল লেন ?
ধরো, 'অ' মানে, না !
তাহলে, 'আ' মানে কি ?
অজ আর আম, বাল্যশিক্ষাকালে, এই অজ ইত্যাদির মানে বুঝিয়ে দেয়নি কেউ ! ফলে, অভিধাসম্বল পাঠক কোনো লেখার মানে থাক, শব্দের ব্যঞ্জনা অনুভব করতে অসমর্থ হয় !
পাঠক দেবতা, জানি, মুশকিল হলো, ঐ যে, তার দেবত্ব সকলে অর্জন করতে পারে না !
নাস্তির ভেতরে প্রবলতম এক অস্তি যে রয়েছে, দেবত্বহীন পাঠক কোনোদিনই অনুধাবন করতে পারে না তা !
এর পরিণাম জানি, আমাদের বাংলাজগতের শক্তিশালী কবি বা লেখক থেকে জান উপেক্ষিত !
ভুলে যেতে পারলেই মানুষ বাঁচে ! তবু পারে না ! এই একদিক, অপরদিকটি আরও করুণ ! নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা সে করে যায় অনবরত, আবার এই অস্তিত্বের আধিপত্য বিস্তারের অনন্ত প্রয়াসও করে মানুষ ! ক্ষমতাবিস্তারের পাশাপাশি সে চায় অমরত্ব, এই চাওয়া যুগ যুগ ধরে !
এই দুই রূপ মানুষের আজন্ম !
এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সকলই তোমার জন্য, নচিকেতা জেনেছিলো !
আপন সহোদরাকে সহধর্মিনী হিসেবে গ্রহণ করে তুমিই দেখিয়েছিলে, নারী ও পুরুষ ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক নেই মানুষের !
তুমি যম, ধর্ম বলে মানুষে তোমাকে চেনে !
মরজগতের শেষ কথা তুমি !
তুমিই শিখিয়েছো, নিত্য বলে কিছু নেই !
বিষাদ ও সুখ, আজ, দুজনেই এসেছে আমার কাছে,
কোর্ট-ম্যারেজের প্রস্তাব এনেছে তারা !
বিবাহ বিষয়ে তাদের কি আর বলি !
পাখিদের গল্প শোনাই তাদের, চড়ুইয়ের কথা,
শুক ও সারির কথা, বলি, বিবাহের
চেয়ে, যাও, ঘুরে এসো নৈনিতাল, সিকিম ও পুরী
তুমি সুখ বিষাদের সব রস শুষে নাও নিজের গভীরে,
বিষাদ, তুমিও, শ্বাসে নাও সুখ !
বিবাহ বিষয়ে, এটুকু বলার পর
দেখি, দুজনে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে অনন্ত বাসরে !
শিখে গেছি নাগরিকতার ভান,
গ্রাম্য শিক্ষকের ছেলে আমি,
এবার গ্রাম্যতা ছেড়ে পরে নেবো সাপের খোলস,
প্রবল শীতের রাতে ঝড় এলে কাকতাডুয়ার
টুপি ও পোশাক পরে পাহারা দেবো নিজের আত্মা
আর হেড়ে গলায় গাইবো
বড়ে গোলাম আলির আশ্চর্য খেয়াল
ভাটিয়ালি গান ভুলে এখন শুনবো বিঠোফেন
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে
নিজের চেহারা দেখে চমকে ওঠবো
ভূত না কি প্রেত ?
ভি এম হাসপাতাল, মানে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল, জোট আমলে, যার নাম পালটে দেওয়া হয়েছিলো, ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামকরণ করেছিলো তদানীন্তন কংগ্রেস সরকার, ক্ষমতারদর্পে, আজ দেখলাম ভেঙে ফেলা হচ্ছে !
আগরতলার সকল ঐতিহাসিক স্মৃতি কি নির্মমভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে, এটা তার এক নমুনা !
এর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে লালমহল, রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন দুটি বাড়ি, শ্বেতমহল ও লালমহল ! এই লালমহলেই মহারাজা বীরবিক্রম মাণিক্য এবং তার পূর্ব-পুরুষগণ ছবি আঁকতেন ! অসাধারণ এই প্রাসাদটি ভেঙে সেখানে তৈরি করা হলো টাউনহল !
রাজস্মৃতি মুছে ফেলার বিপ্লবের সেই শুরু !
এবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালের অপূর্ব বাড়িটিও ভেঙে ফেলা হচ্ছে !
ইতিহাস মুছে ফেলার এই বিপ্লব কবে যে থামবে ?
ছেড়ে যাবার আগে, প্রাণ, তার দেহকে বলে গেলো, তুমি আমাকে ঠকিয়েছো ! এই শেষদিনও !
--প্রাচীন প্রবাদ
চৌষট্টি যোগিনী আসলে চৌষট্টি কলা,
ভুবনেশ্বরের পথে যত ছলাকলা
সকল ছাপিয়ে তুমি হয়ে ওঠো সত্য !
তুমি নারী, তুমি দেবী, নরক ও মর্ত
তোমার প্রতিষ্ঠা, স্বর্গ তোমার রচনা !
তোমাকে বন্দনা করি প্রতি রাতে, ক্ষণা !
মুশকিল হলো, শব্দ, যা মূলত ধ্বনিনির্ভর, যা বহুব্যবহারে হয়ে উঠেছে ক্লিশে, তাতে কি ভাবে সঞ্চারিত হবে প্রাণ ?
একজন কবির সামনে, লেখার আগে, এই প্রশ্নটিই বড় হয়ে দেখা দেয় !
অভিধা তার কাঠামোকে ধরে রাখে বটে, তাতে প্রাণ সঞ্চারিত হয় না ! কাঠামো তো আর প্রতিমা নয় !
তা হলে ?
এই তাহলে থেকে জন্ম নেয় দার্শনিকের আকাশ, কবির নীলিমা !
লোকে যারে বড় বলে বড় সে-ই নয়
আপনারে বড় বলে, বড় সে-ই হয় !
যা ভাবো, আর যা ভাবো না, এই দুইয়ের মাঝখানে এক বৈতরণী বয়ে যাচ্ছে আদম ও ঈভ-এর জন্মকাল থেকে !
আমাকে ঐ বৈতরণীর অগ্নিস্রোতে ফেলে দিয়ে, বলছো, ডুব দাও, তুলে আনো, ত্রিশাংশ নয়, দ্রেক্কান-সন্দেশ !
লগ্নপতি অষ্টমে যার, তাকে এটুকু অপমান সইতে হয়, বলে, ডুব না দিয়ে, আমিও এগিয়ে যাচ্ছি দ্বাদশপতির দিকে !
চিত্রগুপ্ত, তুমি কেন তাকে রেখেছো শত্রুগৃহে ?
আমি আজকাল স্বপ্ন দেখি না,
কেন না, স্বপ্নেরও সীমাবদ্ধতা আছে !
ডায়েরি নিজস্ব, প্রতিরাতে লেখা এক ইতিহাস,
রাজা-উজিরের কথা নেই,
বিজয়কাহিনী নেই, দীর্ঘশ্বাস সহ
পোড়া সিগারেট, ছাইদানি,
উপমাবিহীন এক খালি ময়দান
উড়ে এসে বসেছে সেখানে ! তাঁবু পেতে
রচিত ত্রাণশিবির থেকে ভেসে আসে
হাহাকার-ধ্বনি... একত্রিশ পাতা জুড়ে,
তেষট্টি পাতায় এসে, চাপা এক যৌনকাতরতা, সন্ত্রাসের মত রয়েছে ছড়িয়ে,সত্তর পাতার
শেষে, কাটাকুটি, পরিমার্জনার মত
এক তরুণীর মুখচ্ছবি
নিচে লেখা : ট্রয় ধ্বংস হলো...
তারপর, সব পাতা সাদা...
সামনে, ডায়েরি খুলে, বসে আছেন ওয়াটসন
দূরে, শ্রাদ্ধবাসরের শান্ত কলরব !
শক্তি চট্টোপাধ্যায় আসছেন !
এই একটি বাক্যে, শিলচর শহর, সেদিন, উত্তাল হয়ে উঠেছিলো প্রায় ! কাছাড় বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ছিলো জেলা গ্রন্থাগারে ! আগের দিন এসেছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মাতিয়েও গেছেন কবিতাপ্রেমীদের !
কিন্তু শক্তি চট্টোপাধ্যায় আলাদা !
আমি তখন বাড়ি-পালানো ছেলে !
কবিতা লিখি, এই গর্বে, শিলচরের মাটিতে যেন পা পড়ে না আমার ! মিথিলেশ ভট্টাচার্য, তপোধীর ভট্টাচার্য, শেখর দাশদের সঙ্গে শতক্রতু নিয়ে মেতেছি, রাত কাটাই মিথিলেশ-এর পাশের বিছানায়, দু-বেলা খাই তপোধীর ও তার বোন অদিতির সৌজন্যে ! আর দৈনিক প্রান্তঃজ্যোতির সম্পাদকীয় লিখি, রবিবারের পাতা সম্পাদনা করি !
শক্তি চট্টোপাধ্যায় এলেন দুপুরের ফ্লাইটে, মুড অফ, সার্কিট হাউসে, তাকে ঘিরে অনেকেই, কারও কথার জবাব দিচ্ছেন না তিনি !
কবি কি এমনই হয় ?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তো সবার সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে মেপে মেপে ! শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাহলে কথা বলছেন না কেন ?
শক্তিপদ ব্রহ্মচারীও থ হয়ে আছেন ! কি করবেন বুঝতে পারছেন না ! হাইলাকান্দি থেকে এসে ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কানে কানে , কি যেন বললেন, হো হো করে হেসে ওঠলেন তিনি !
মনে হলো, চার বছরের কোনো শিশু হাসছে !
সন্ধ্যায়, মঞ্চে উঠে, বই ছাড়াই তিনি যখন 'তীরেতে প্রচণ্ড কলরব' পাঠ করতে করতে, হঠাত্, সমগ্র গ্রন্থাগার কাঁপিয়ে, বলে উঠলেন, আমি স্বেচ্ছাচারী...আমার শরীরের রোমরাজি শক্তি শক্তি করে উঠেছিলো !
কবিতার পুরুষ তিনি, তাঁর সান্নিধ্যে না এলে, কবিতার অন্দরমহলে প্রবেশ করতে পারতাম কি না, সন্দেহ আছে আমার ! শব্দ নিয়ে এমন পাগলামি বাংলা কবিতায় খুব কমজনই করেছেন ! মেদিনীপুর মানে মেদিনী দুপুর, আর দুপুর মানে দুখান বুক...এভাবে, ধীরে ধীরে মর্মমূলে যাওয়া, তাঁর পক্ষেই সম্ভব !
আজ মন খুব খারাপ !
লতিফ সিদ্দিকিকে, বাংলাদেশে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে !
একজন মুক্তিযোদ্ধা তিনি, তাঁর মত কবিতা পাগল লোক খুব কম দেখেছি আমি !
2009-য়ে, ঢাকা গিয়েছিলাম ! মেসবাহ কামাল-এর ধানমণ্ডির ঘরে কয়েকদিন কাটাবার পর, ময়মনসিং যেতে হয়েছিলো প্রীতি আচার্যর অনুরোধে ! তিনি তসলিমা নাসরীন-এর গুণগ্রাহিনী, বাংলাদেশ বেড়াতে এসে, তসলিমার বাড়ি দেখবেন না, এটা কি করে হয় !
ময়মনসিং-য়ে তসলিমার বাড়িতে, তাঁর দাদার সঙ্গে যখন কথা বলছি, একদল তরুণ এসে খোঁজ করলেন আমার ! ঢাকা থেকে মফিদুল হক খবর দিয়েছেন তাদের, যে, আমি সেখানে গেছি !
যাই হোক, ধান ভানতে শিবের গান এখন থাক, বরং বলি, পরদিন, আমাদের পথপ্রদর্শক-এর কাছে ফোন এলো, বাংলাদেশের বস্ত্রমন্ত্রী আমাদের ডিনারে নেমন্তন্ন করেছেন !
মন্ত্রী-নেতাদের থেকে সতেরশ কিলোমিটার দূরে থাকি আমি ! আর বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর নামও জানি না ! তার চেয়ে বড় কথা, আমি কোনো সেলিব্রিটিও নই !
দু-এক লাইন লিখি, দু-চারটে বই, পকেটের টাকা খরচ করে, বের করেছি বটে, সতের কপির বেশি বিকি হয়নি তার একটাও !
এ হেন অখ্যাত লোককে ডিনারে নেমন্তন্ন করবেন কেন এক দেশের মন্ত্রী ?
তত্ক্ষণাত্ সেই নেমন্তন্ন ফিরিয়ে দিই আমি !
হায় ! ফিরিয়ে দিতে পারলাম কই ? বাসে করে ঢাকা যখন ফিরছি, আবার ফোন এলো !
মন্ত্রী নাছোড়, অগত্যা গ্রহণ করতে হলো সেই নেমন্তন্ন ! তাও এক শর্তে ! আরও কয়েকজন কবিকেও যেন এই ডিনারে ডাকা হয় !
হ্যাঁ, তিনিই লতিফ সিদ্দিকি !
রাতে, মন্ত্রীর অফিস থেকে গাড়ি এসে আমাদের যখন তাঁর বাসস্থানে নিয়ে গেলো, আমি বাকরুদ্ধ ! তিনি তাঁর আসন থেকে উঠে এসে, প্রীতিকে বসাতে গেলেন তাঁর আসনে ! কবি জাহিদ হায়দার বললেন, তরুণী কবিরই যোগ্য আসন সেটা, কোনো মন্ত্রীর নয় !
যাই হোক, প্রীতি নয়, সে রাতে, মন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন বাংলাদেশের সিনিয়র লেখক আবুবরকর সিদ্দিকি আর ঘরের এক কোণে, একটা টুলের উপর চৌকিদারের মত বসেছিলেন বাংলাদেশের তদানীন্তন বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকি !
গান, কবিতা পাঠ, পানীয় ও আড্ডায় জমে উঠেছিলো সেই ডিনার ! লতিফ সিদ্দিকি নিজে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন রবিঠাকুরের কবিতা !
লতিফসাহেব সেরাতে তাঁর পার্সোনাল লাইব্রেরি দেখিয়েছিলেন আমাকে ! ত্রিপুরার যে কোনো জেলাগ্রন্থাগার লজ্জা পাবে এটা দেখলে ! ফিরে আসার সময় তিনি হাজার পাঁচেক টাকার বই হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যার কয়েকটা ছিলো তাঁর নিজের লেখা !
এগুলির একটি ছিলো স্ত্রীকে লেখা চিঠি, সেই বই থেকে জানতে পারি, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন ত্রিপুরায় !
আজ সত্য কথা বলার অপরাধে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, হয়তো তাঁর উপর নেমে আসবে শাস্তির খাঁড়া ! সক্রেটিসের বিচারের মত হয় তো তারও বিচার করবে হাসিনাসরকার !
আমরা তখন ফেসবুকের আড়ালে মুখ ঢেকে রাখবো ! কাপুরুষের এইই নিয়তি !

Thursday, November 13, 2014

লিখি না, পড়ি না, তোমার ভাষায়, ভান করি ! ভান যে করে, সে ভানক, এই ভানকই
তোমাদের কাছে ভদ্রলোক !
(ভান>ভানক>ভদ্রলোক !)

জানো, ভদ্রলোকদের আমার বড় ভয় !
কক্সবাজার, চিটাগাং দেখার ইচ্ছে অনেকদিনের ! ডিসেম্বরে এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে পারে ! সাতদিনের জন্য পুনরায় বাংলাদেশে যাচ্ছি বিলোনীয়া বর্ডার দিয়ে ! ফিরবো ঢাকা হয়ে আগরতলা চেকপোস্ট দিয়ে !
সুমী নেই চিটাগাং-য়ে, বলেছিলো সে-ই আমাদের সব দেখাবে, থাকবো তার কাছেই ! সে নেই বলে, হয়তো সামান্য সমস্যা হতে পারে, তা অবহেলা করেই এবারের ভ্রমণপর্ব সেরে নিতে হবে !
মন বলছে, আর দেরি করো না, সমরজিত !
দেখা হয় নাই চক্ষু বুঁজিয়া...
অর্থই অনর্থের মূল...বাংলা ভাষার অনেক শব্দের অর্থ আজ পালটে গিয়ে বড় বিপদ ডেকে এনেছে আমাদের মত সাধারণ কাছে !
আবার অনেক শব্দই মুছে যাচ্ছে ধীরে ধীরে !

শব্দই ব্রহ্ম, এই কথাটির গুরুত্ব না বুঝলে, লেখালেখির করার কোনো মানে নেই !
ফিরে এসে দেখি, তুমি নেই...
ও আয়না, অন্ধ বলে, আজ
আমাকে ফিরিয়ে দিলে, আমি
পথে পথে ঘুরি, পথ ঘোরে,
ছায়ার পেছনে, কানা গলি
পার হয়ে, এসেছি দক্ষিণ
দুয়ারে, মৃত্যুর সন্নিকটে !

অন্ধের সমিতি নেই, বহু ব্যবহৃত স ঙ্গীত রয়েছে
মূলত তা কান্না, অশ্রুহীন
অমাবস্যা রাতে, নিঃসঙ্গের !

ও আয়না, পারা উঠে গেছে
পরাজিত এম এল এর মত
ফিরিয়ে দিয়েছো তুমি তবু,
এ শীতে কোথায় থাকি, বলো ?
দূরে, কোথাও ঘণ্টা বাজছে, শাঁখ বাজাচ্ছে কেউ...প্রাতঃকাল এভাবে বরণ করে নিতে কখনও দেখিনি !
নভেম্বরের শীত নামছে ধীরে ধীরে, কুয়াশার আস্তরণ পড়ছে বোয়াল মাছের তরকারিতেও, কম্বল বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে ফুটপাথেও ! কিছুদিন পর খেজুরের রস নিয়ে আসবে গ্রাম থেকে, আধামফস্বল এই উদয়পুর ক্রমে প্রস্তুত হচ্ছে এক অনন্ত শীতের জন্য !

আসলে উদয়পুর নয়, আমিই প্রস্তুত হচ্ছি, এই শীত আমার বড় প্রিয়...
আজ বিলোনীয়া ঘুরে এলাম, প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপন দাশ, সহ-সভাপতি নীহার সাহা সহ অপর সদস্যদের সঙ্গে দেখা হলো নারায়ণ শূর-এর দোকানে ! নারায়ণবাবু সম্প্রতি ঘুরে এসেছেন ফিলিপাইনস থেকে, মজার মানুষ ! তবু আড্ডার মধ্যমণি নীহারবাবু, যাকে এক ডাকে নিকু বলে জানে ! খাওয়াদাওয়া হলো আমার এক পুরনো সহকর্মী গৌতম দেবনাথের ঘরে !

বিলোনীয়া আমার চাকুরিজীবনের সেরা জায়গা ! এক বছর সেখানে কাটিয়েছিলাম আনন্দে ! এই বিলোনীয়ার মানুষজন এখন ক্ষিপ্ত, তাদের প্রিয় নেতাকে অবমাননাকর ভাবে অর্থ দপ্তর থেকে সরিয়ে দেবার জন্য !
বিশালগড় আর ডি ব্লকের সতের কোটি টাকার কেলেংকারির তদন্ত করিয়ে বিডিও-র বিরুদ্ধে মামলা করার অর্ডার দেওয়ার অপরাধে তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী বাদল চৌধুরীকে দপ্তর খোয়াতে হয় চারদিনের মাথায় ! এটা খবরের কাগজের প্রতিবেদন ! আর বাদল চৌধুরী বিলোনীয়ার জনপ্রিয়তম নেতা, ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন বিলোনীয়ার মানুষজন !
এর বহির্প্রকাশ, আজ দেখলাম, বিলোনীয়ার এক চা-স্টলে ! সেখানে এক জোকস শুনলাম, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে নিয়ে ! ছেলেবেলায় পঠিত এক নীতিশিক্ষার গল্পকে ভাঙিয়ে এই জোকস !
এক মৃত্যুপথগামী বাপ তার তিন ছেলেকে একশ টাকা করে দিয়ে বললেন, যে এই টাকা দিয়ে এমন কিছু কিনে এনে ঘর ভরাতে পারবে, তাকেই সমস্ত সম্পদ দিয়ে যাবেন !
ছেলেদের একজন নিয়ে এল তুলো, ঘর ভরলো না ! আরেকজন আনলো লোহা, ঘর ভরলো না ! শেষজন পাঁচটাকা দিয়ে নিয়ে এলো একটা মোমবাতি, তার আলোয় ভরে ওঠলো ঘর ! ছেলেও খুশি, সম্পদ এবার তার-ই হবে !
বাপ গম্ভীর গলায় বলে ওঠলেন, তুই তো, দেখছি, মানিক সরকারের মতো ! বাকি পচানব্বুই টাকা-ই মেরে দিলি !
মারীচ জানত, তাকে মরতেই হবে, পুরুষের মৃত্যু লোভ ও লালসার হাতে, সে এটাও জানত, রাবণের মৃত্যু সমাসন্ন !
রাবণ তা জানত না, তার চোখ সীতার আলোয় ছিল অন্ধ, অন্ধদের ভবিষ্যতজ্ঞান নেই ! ফলে, সমুদ্রও প্রতারণাকারী, তা জানেনি রাবণ !

রামায়ণপাঠ শেষে, কথক নীরব হয়, আর সকল পুরুষশ্রোতা হা হা করে তেড়ে আসে কথকের দিকে, শাঃলা ! বোকা ঠাউরেছ আমাদের ?
সমাজ উচ্ছন্নে যাক, এমন গ্রন্থপাঠ করে কি বোঝাতে চাইছ ? তুমি কি পুরুষ নও ?

কথক পুরুষ নয়, তবে কি সে নারী ? না কি সে-ই পুরাণকথিত কিম্পুরুষ ?
ছলনাসিদ্ধা বলে খ্যাত এ জগতে,
তোমাকেই পূজা করি, মায়া, তুমি দেবী,
সকল ভ্রমের...
আগনে বিয়োবে মেয়ে, মাঘে তার বিয়া
পঙ্খীরাজে আসে বর, থর থর হিয়া !

Tuesday, November 4, 2014

আয়না, তুমি কার ?
আয়না হেসে ওঠে, বলে, যে দেখে, তার...

আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি, পারা উঠে গেছে তার, অস্পষ্ট চেহারা...

আয়না, এ কোনজন ?
নীরব এক হাওয়া বয়ে গেলো, শির শির করে ওঠেদেহকাণ্ড !

আয়না...এ যে আমি নই...এই কঙ্কাল, মুণ্ডুহীন...

এই তুমি, এই তুমি...
মূলত আমারও দিন কাটে
মৃত্যুর পথ চেয়ে...

সে কথা বলিনি আগে ?
ওগো রাত্রির মেয়ে !

একটি জিরাফ আসে ঝাউবনে
খুঁটে খায় লাল ঝুঁটি

ঝাউবন তুলে দেয় তাকে তবু
আদরের রুটি !

এসব দৃশ্য দেখি একা একা
পৃথিবীতে এসে,

আবার দেখেছি, মৃতদের
নাচ জতুগৃহ শেষে

ধর্ষকও মজুরি পায়
রেগাময় গ্রামে...

মঞ্চশোভিত হয় পাপ
আর পূণ্যের নামে !

দিন কাটে আহত বাঘের মত
রাত, ফেরারীর বেশে

একে কি বলবে তুমি, বাঁচা ?
প্রাণহীন দেশে ?
এক স্বাধীন ও সুন্দর সকাল, যার স্বপ্ন দেখেছি বহুকাল ধরে ! 1979 এর জানুয়ারি, এই চাকুরি পাই, বলা বাহুল্য কোনো ইন্টারভিউ ছাড়াই এই চাকুরি !
তখন সবে বাম সরকার এসেছে ক্ষমতায়, জনগণের সরকার হিসেবে নিজেদের ইমেজ গড়ে তোলাই ছিল নৃপেন চক্রবর্তীর প্রাথমিক কাজ ! নিরাপত্তা রক্ষী নিতেন না, সরকারি গাড়ি পারত পক্ষে ব্যবহার করতেন না মন্ত্রীগণ !
এই পরিপ্রেক্ষিতে, নৃপেন চক্রবর্তীর সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যে, ত্রিপুরার ছোটো ছোটো, উপেক্ষিত ভাষাগুলির বিকাশে সরকার সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করবে ! অর্থাত্, সংখ্যালঘু ভাষাগোষ্ঠীর আবেগ কাজে লাগিয়ে, তাদের নিজেদের ভোটব্যাংক শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করা !
এটা টের পেতে অনেক সময় চলে গিয়েছিলো আমার !
তো, আমার মাতৃভাষা বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরীতেও সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয় !
মুশকিল দেখা গেলো, সম্পাদক হিসেবে যাদের কথা ভাবা হয়েছে, তাদের কেউই এই দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না, কেন না, এই কাজটাই তারা জানতেন না !
নৃপেনবাবু মুশকিলে পড়লেন, তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন আগেই, 25 জানুয়ারি 1979 এই সাপ্তাহিক কাগজটি বেরুবে অথচ ডিসেম্বর চলে যাচ্ছে, একজন সম্পাদক পাওয়া গেলো না এখনও !
বিমল সিংহ তখন বিধায়ক, কলকাতায় দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাটিয়েছি আমরা ! তিনিই প্রস্তাব করেন সম্পাদক হিসেবে আমার নাম আর তার বিরোধিতা করেন অনিল সরকার, তিনি তখন জনসংযোগ ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী , তাঁর আপত্তির কারণ, আমি না কি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চেলা, কট্টর হাংরি ! যাই হোক, তাঁর এই আপত্তি ধোপে টেকেনি নৃপেন চক্রবর্তীর সামনে !
এসব কথা খোদ নৃপেন চক্রবর্তীই একদিন হাসতে হাসতে আমাকে বলেছিলেন ! ততদিনে তাঁর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলাম ! আর একজনও একথা জানিয়েছিলেন আমাকে, তিনি অরুণাংশু কর, অনিল সরকারের পি.এ !
বিমল সিংহ টেলিগ্রাম পাঠান আমাকে, তাড়াতাড়ি এসে চাকুরিতে জয়েন করো !
10 জানুয়ারি 1979 থেকে 31 অক্টোবর 2014, চাকুরির লোভে, পেটের দায়ে, গোলামজীবন কাটিয়েছি, যে জীবন ছিলো অপমানিতের, যেখানে ষড়যন্ত্র ছিলো প্রধান অস্ত্র ! অফিস মূলত এক চক্রান্তালয় , টের পাই চাকুরিতে এসে !
স্বপ্ন বলে যাকে ভাবি, সে আসলে এক রূপকথা, না দিয়ে তৈরি তার ভিত, হ্যাঁ-এর সেতু, ফলে, একদিন, ভেঙে পড়ে, তখন দোষ চাপানো হয় বুধোর ঘাড়ে !
বেচারা বুধো তখনও স্বপ্ন বুনে যায় তার হৃদয়তাঁতে, নীল আকাশের ছাঁদে বুনে চলে তার স্বপ্ন...
ছিলাম তোমার টানে, নেই যে, সে তোমারই কৃপা, আর এই থাকা ও না থাকার মাঝখানে বয়ে গেছে এক স্তব্ধ ঝড়...
নক্ষত্রজালের ফাঁকে, ঐ যে,
ফুটে আছে ছাইফুলগুলি,
দুধশাদা, কিশোরীর সদ্য
জাগা স্তনের ওভাল শেপ
যেন, তাদের ও পাশে এক বল্লমের মত ধেয়ে আসা
ধূমকেতুটির দিকে যদি
তাকাও, দেখবে, নশ্বরতা
আলো হয়ে আছে পৃথিবীতে !

প্রণাম জানাই আজ এই
নশ্বরতাকে, আহত স্বর,
তোমাকেও, বাঁচিয়ে রেখেছো,
এতদিন, রিক্ত কথকতা !
দেবতা কে ? ঈশ্বর-ই বা কে ?
এর উত্তরে, কৃষ্ণযজুর্বেদের প্রথমদিকের অনুবাকে আশ্চর্য এক কথা বলা হয়েছে, যে, মন-ই ঈশ্বর বা দেবতা !

কত যুগ আগে, আমাদের পূর্বপুরুষগণ এই সরলসত্য অনুভব করেছিলেন, অথচ আমরা ঘুরে মরছি এক মরীচিকার পেছনে !
ভুল নামের পোকাটি তার বিষ ঢেলে দিয়েছে রক্তের প্রতিটি কণিকায়...

এবার মজা দেখো...
বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, না, বসন্ত আসতে ঢের দেরি ! হেমন্ত পার হয়ে, শীত চলে গেলে সে আসবে !
আর, কে না জানে, বসন্ত মানেই পলাশের মাস !
এই পলাশ সম্পর্কে আমাদের পূর্বপুরুষদের ধারণা অন্যরকম, তাঁরা পলাশশাখাকেও দেবতারূপে বন্দনা করে গেছেন !
তাঁদের বিশ্বাস ছিলো, সোমপর্ণ থেকেই পলাশবৃক্ষের উত্পত্তি !
একদা দেবগণ সোমপর্ণ আহরণ করতে গেলে, সেই পাতাটি খসে পড়ে যায় ভূতলে, সেই ছিন্ন পাতাটি থেকেই পলাশের উত্পত্তি !
যজ্ঞং দধে সরস্বতী !
পাবীরবী কন্যা চিত্রায়ূ: সরস্বতী ধিয়ং ধাত্ !
গ্নাভিরচ্ছিদ্রং শরণং সজোষা দুরাধর্ষং গৃণতে শর্ম্ম যং সত্ !
---কৃষ্ণযজুর্বেদ/একাদশ অনুবাক
বাংলার্থ : বীরগণ উত্পাদনকারিণী, বীরপত্নী, ছন্দযুক্তা, কমনীয়া, বিচিত্রজীবনশালিনী সরস্বতী আমাদের পরাভবহীন অনন্ত সুখ দান করুন !
ধার করে আনা রোদে তাপ নেই, বলে, ভেবো না, জ্যোত্স্না তার নাম !
কাকে বলে জীবন ?
মৃতের মতো এই বেঁচে থাকাকে ? জড় পাথরের মতো অনুভূতিহীন এই থাকা আর না থাকার মধ্যে পার্থক্য কি করে করা যায় ?

পথ বাঁক নেয়, নদীও ! লোকে বলে, জীবন, এই নদী ও পথের মতো, বাঁক নেয় ! এই বাঁকের ওপাশে অনিশ্চিত এক ত্রাস ও আশংকা থাকে তার থাবা মেলে, কখনও বা স্বপ্ন !
এইসব জীবনের অংশ, জীবন নয় !
জীবন তাহলে কি ?
দুদিনের হাসিকান্না ? না কি ঐ সাপলুডো ? সাপের মাথায় পড়ে, পুনরায়, প্রথম থেকে শুরু করা ?
পথ ও নদী তা করে না, তারা জানে, চরৈবতি !
আর এই চলা মূলত মৃত্যুর সমীপে, এক ধ্রুপদী কবিতার মতো, নীরব, নিঃসঙ্গ অথচ দৃঢ় !
না, জীবন নদী নয়, পথও নয়, এ আসলে এক ভাটিয়ালি সংগীত !
চাকুরি থেকে অবসর নেবার পরও, হায়, চাকুরি আর আমাকে ছাড়ছে না !
পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজিত Tribal Arts & Folk Festival সম্পন্ন করে দিতে হবে আমাকেই ! আদিবিম্ব নামের এই ফ্যাস্টিভ্যালে ত্রিপুরার ঊনিশটি উপজাতিগোষ্ঠীর সতেরটি গোষ্ঠী তাদের নৃত্য ও সঙ্গীত নিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, আর আসাম ও মনিপুর থেকেও আসছেন শিল্পীগণ !
আগামী আট ও নয় নভেম্বর এই ফ্যাস্টিভ্যাল ! স্থান রাজর্ষি কলাক্ষেত্র, উদয়পুর !

অবসরপ্রাপ্ত, এবং সরকারের নাপছন্দ লোক আমি, তবু আমাকেই অনুরোধ করা হলো, আর আমিও না করতে পারলাম না, একজনের দিকে তাকিয়ে !
হ্যাঁ, তিনি সুব্রত দেব !
একদা উদয়পুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান এবং অতিসজ্জন !
ঘরেং অচ্ছই বাহিরে পেচ্ছই
পই দেকখই পডিবেসি পুচ্ছই
সরহ ভণই বঢ জানউ অপ্পা
ণউ সো ধেয় ণ ধারণ জপ্পা !

--- সরহ দোঁহাকোষ
মোহই কি আসল ? সকল সম্পর্কের পেছনে তাহলে কি এই মোহ ? না কি আর কেউ আছে ? সে কে ?
মায়া ? সে তো মোহ-র ছোটো বোন !
মোহ কেটে গেলে, মায়া ফুরিয়ে গেলেও, অনেক সময় বেঁচে থাকে সম্পর্ক, সে বেঁচে থাকা প্রাণের তাগিদে !

এই প্রাণই আসল, সেই চায় ভালোবাসা, সেই রচনা করে বিরহ, সৃষ্টি করে নিজের জগত...যে জগতের ঈশ্বর মন !
'দেখার আগে চিনেছিলাম,
দেখার পরে চিনতে পারিনি...'

উদ্ধৃতিটিতে হয়তো ভুল থেকে গেলো খানিকটা, কিন্তু সারমর্মটুকু এই...

Wednesday, September 17, 2014

আশ্চর্য ! আজ কি পূর্ণিমা ?
আকাশে দুটি চাঁদ কেন ? না কি কোনো ভাদ্রসুন্দরীর কপালের টিপ ?
না, ভদকা তো খাইনি ! তাহলে ? আফিম বা গাঁজাও খাইনি ! অথচ দিব্যি দুটি চাঁদ, পাশাপাশি, জ্বল জ্বল করছে !

চশমাও তো নতুন !
তাহলে ?
ভাবতাছি, একটা স্ট্যাটাস দিয়া ফালামু !
তয়, সাবজেক্ট খুঁজতাছি !
নেগেটিভ দেওন ভালা না, আমারে আমার মাইয়া কইয়া দিছে, বাবা, দুঃখরে বুকর মাঝে রাখবা, কথা কইবা হাসি মুখে !
মাইয়া আমার সিয়ানা ! তার কথা ফালাইবার না !
তয়, সাবজেক্ট ?
প্রেম, না, রাজনীতি ? না কি, ধর্ম ?
ধর্ম কইলেই ভাইস্যা ওঠে, ক্ষমতার কথা...মাইনষরে দাবাইয়া রাখার ঘুইট্যাচাল ! একদিকে প্রেম, আর একদিকে রাজনীতি...ধর্ম তার এই দুই মুখ লইয়া ক্যামনে হাজার হাজার বছর মাইনষরে দাবাইয়া রাখছে, ভাবলে শরীরর রোম শির শির কইরা ওঠে ! এইডা জানার নামরে আমরা কইছি ইতিহাস !
মৃত্যুর সঙ্গে পাশা খেলার শখ বহুদিনের...
বার্গম্যানের ছবি দেখার অনেক আগে থেকেই এই শখ ! সেই ছেলেবেলায়, মালঠেপে, এক সন্ধ্যায়, বড়দের পাশাখেলা দেখার পর থেকেই আমার এই শখ...
এখন, মাঝে মাঝে, মনে হয়, সমগ্র জীবন ধরেই তো পাশা খেলে আসছি মৃত্যুর সঙ্গে...
জানি, একদিন, এই সূর্য সহ গ্রহনক্ষত্র সকলই চলে যাবে কালের গহ্বরে...

তখনও অন্য কোনো সৌরলোকে, অন্য কোনো জগতে আমাদের স্বপ্নগুলি,
ক্রমে, রূপ নেবে ভ্যান গগের
ছবির মতো...
এটা ঠিক, উপমা উপমাই, উপমা আসলকে ধরতে পারে না, কিছুটা আভাস বা ইশারা দেয় মাত্র !
তবু কবিরা সুযোগ পেলেই উপমার আশ্রয় নেন, কালিদাস এই কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছিলেন, বলে, উত্তরসূরীরা এখন, কথায় কথায়, বলেন কালিদাসস্য উপমা !
প্রণয় কাহাকে বলে জানে না বালক,
মাতৃগর্ভ ছেড়ে এসে, সে দেখে, পালক
খসানোর যজ্ঞ, তন্ত্র সাধনার মত
নির্জন রাত্রিকলস, ওম্, সম্ভবত
কলসের থেকে আসা নিরালম্ব ধ্বনি…
ফলত সে খুঁড়ে চলে একাধিক খনি ।
প্রণয় কাহাকে বলে জানে সে বালিকা,
চতুর্দশী রাতে একা গাঁথে সে মালিকা ।
বলে না কাউকে, ভাবে, বলিবার নয়,
প্রেম কবিতার মত, সে ইশারাময় ।
বস্তুত শূন্যতা বাড়ে খনির ভেতরে
অন্তর্মুখী স্রোত ক্রমে পলি চাপা পড়ে ।
বালক বোঝে না এই চাপা, টান টান
রহস্যময়তা, তার চাই অনির্বান
যজ্ঞ সহ রতি, শব সাধনার পথে
একান্ত ভৈরবী সহ পরবিধিমতে
রচিত সঙ্গীত কিছু ! ইহা কি প্রণয় ?
কে জানে সংজ্ঞার রূপ, সকল সংশয়
ধাবিত হয়েছে আজ মৃত নগরীতে,
মালিকা শুকায় একা নীরব সঙ্গীতে !
সমস্ত দিনের শেষে পড়ে থাকে একান্ত অসুখ...
বস্তুত সকলেই ভিখারি...
ঠিক আছে, কথাটির দুটি অর্থ, ঠিক নেই আর এবং সত্যি ঠিক আছে ! জানি না, এই দুটির কোনটা গ্রহণীয়...
গ্রহণ আর গ্রহণের মাঝখানে আশ্চর্য এক ফাটল, সেই ফাটলের অতলে পড়তে পড়তে ভাবছি, একেই কি পাতালগমন বলে ?
দিনগুলি হোক রচনার, শৈলীর আর ভাবনার...
রাতগুলি হোক...
হাহাকার আড়াল করা কবিতার...
আকাশ ভরে ওঠুক নীলে
প্রকৃত ভালোবাসায়
মানুষের হৃদয় হোক, ঘাস নয়,
শকুনের ভাঁড়ার নয়, আনন্দস্থান...
ঈশ্বর বা আল্লাহ নয়, এই আনন্দই মানুষের একমাত্র আরাধ্য যা ভালোবাসা ছাড়া পাওয়া যায় না !
গুরু বিনে গতি নেই...
এই কথাটির আড়ালে রয়েছে গুরুবাদ, যা একজন মানুষ বা মানুষীর চেতনাকে পঙ্গু করে দেয় তীব্র ভাইরাসের মতো !
পুরোহিত বা মোল্লাতন্ত্রের এক সরল সংস্করণ এই গুরুবাদ !
ঈশ্বর বা আল্লাহ আছেন কি নেই, সেই কূটতর্কে না গিয়েও বলা যেতে পারে, তিনি যদি সৃষ্টিকর্তা বা পিতা হয়েই থাকেন, তাহলে, পিতার কাছে যেতে তৃতীয় কোনো লোকেরপ্রয়োজন হবে কেন সন্তানের ?
এই তৃতীয় ব্যক্তি তো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া কেউ নয় ?
চিরকাল, পাপ ও পূণ্যের নামে এই দালালশ্রেণী মানুষকে তার অজ্ঞানতা থেকে দূর করার নামে ঠেলে দিয়েছে আরও গভীরতর অন্ধকারের দিকে !
নাভিমূল থেকে সোজা উঠে গেছে পদ্মফুল, এই ক্যালেণ্ডারীয় চিত্র আমরা দেখে আসছি অনেকেই ! সেখানে ধ্যানরত বিষ্ণু, কখনও ব্রহ্মা !
এই দৃশ্য দেখলেই, আমার মনে পড়ে, গভীর দুপুরের কথা !

দুপুর মানেই বন্ধ দরজা, জানালা, ভেতরে বৈতরণী...
সাঁতার কাটছে কোকাকূল...
দরোজা ছিলো কি ? আমি তো এসেছি জানালা টপকে !

দেখেনি তো কেউ ? লোডশেডিংয়ের ফাঁকে চলে
এসেছি তোমার কাছে !

শ্বশুর ঘুমিয়ে গেছে ?
আয়ান কোথায় ? সে কি আজও চিটফাণ্ডের দালালী করে ? ফেরেনি মিছিল থেকে ?

উঠে বসছো যে !
আমাকে নেবে না ? তোমার ঐ
উপত্যকা জুড়ে আজ বন্যা,
ভেসে যাচ্ছে কালীদহ,

নৌকোহীন আমি,
পার হবো তোমার যমুনা !

গুলি বর্ষণের ফাঁকে ফাঁকে
সন্ধ্যার প্রণয়
গাজা আর ইউক্রেণ জুড়ে...

মুখ নামিয়ে আনছি
উড়োজাহাজের
বন্দর কি খুব দূরে ?

জানালা গলে ঐ
আসছে বাতিঘরের আলো

এসো, এবার অবৈধ পুজো
শুরু করি মন্ত্রহীন
গোপন সে তন্ত্রসার আরাধনা

পূণ্য থাক দূরে,
তুমি তো পূণ্যের কারবারী
নও, নীতিমালা

দিয়ে, চলো আজ
শুরু করি রাজসূয় যজ্ঞ !

ক্রমশ নীরবতাই সঙ্গী হয়ে উঠছে আমার...এত কলরব চারদিকে, তা থেকে সরে আসতে আসতে, এখন নীরবতা ভিন্ন আর কিছু নেই অবশিষ্ট !
বাঁচা এবং মরা, দুইই যার কাছে সমার্থক, তার কাছে স্বপ্ন অর্থহীন, দুঃখও অর্থহীন...
সে দেখে আকাশনীলিমা
, গ্রহপু ঞ্জ, দুধছাই পথ, আর নীচে স্রোতরাশি...
এই দেখার ওপারে চুপ করে বসে আছে গভীরতম এক অন্ধকার...
দেবতাদের সব অভিশাপ, তোমার নীরবতা, বিষকলসের শেষ নির্যাস এক চুমুকে পান করবো, বলে, আজ চলে এসেছি মরুনিকেতনে !
এসে, দেখছি, পূণ্যবান ও সতীর মেলা বসেছে বালির শহরে !
কত শস্তায় বিকোচ্ছে খ্যাতি সহ পুরস্কার, ধর্মগীতি গাইছে বোবা, শুনছে বধির, মিছিলে এসেছে পঙ্গুরা !
এই উত্সবের উল্টোদিকে আদর্শের প্রদর্শনী, এসব পার হয়ে, আমি চলেছি বৈতরণীর দিকে !
তোমাদের সকল অভিসম্পাত এবার গলায় ঢালবো, বিষ সহ, নীরবতা, দৈবশাপ মিশিয়ে...

এটুকুই বাকি ছিলো !
আচ্ছন্নতা পার হয়ে একটি সাপ জেগে উঠছে তোমার চোখের ভেতর, লালা সহ তার বিষ আমি ধরে রাখছি চায়ের কাপে...
যে সকাল কোনোদিন আসবে না, তার সমস্ত শরীরে মেখে দেবো এই বিষ আগামী হোলির দিনে, মাখাবো আশ্চর্য বিষণ্ণতা...
তুমি চেয়েছো হলুদ, আমি ভরে দেবো রাবারের রঙ তোমার দুচোখে.
নীরবতা, তোমার ঐ থাবা ক্রমশ চেপে বসছে আমারই হৃদপিণ্ডে...

কি চাও তুমি ? আমার প্রাণ ?
তোমার মলিন কেশগুচ্ছ উড়ে যাচ্ছে মহানিদ্রা থেকে দূরে,
ঘুমের ভেতর তুমি, মনে হল, বড় দুঃখী, পাথরপ্রতিমা,
সবুজ নাইটি সরে গেছে মহাপ্রস্থানের দিকে, ঊরুসন্ধি ব্যবহারহীন, কাঁধ থেকে খসে পড়েছে নাইটিটির হাত, পাকা দুটি ডালিমের উপরে ভ্রমর বসে আছে, মনে হল, এই ভোরের আলোয়, শ্বাস-প্রশ্বাসের ধ্বনি থেকে ক্রমে ঝরে যাচ্ছে দুঃখ !
গৃহ জতুময় জেনেছিলে,
তবু এই গৃহটানে তোমার জীবন পূর্ণ হচ্ছে শূন্যতায়...

পথ জানে, তোমার বেদনা,
দীর্ঘশ্বাসময় এই ভোরে
তুমিই রচনা করো নীরবসঙ্গীত

আমি তার একমাত্র শ্রোতা...

Monday, September 8, 2014

তুমি, এই সম্বোধন, তাহার মাধুর্য সহ ধাবিত হয় মরু-উদ্যানের দিকে, যেখানে ঐ যৌনউট জাবর কাটিতেছে আপন মনে !
সে অনুভব করে না এই মরুহাহাকার, সম্বোধনলীলা, আর উষ্ণ নীলিমা !
উটের চাহিদা কন্টকসর্বস্ব, তুমি সম্বোধনটির অভিমুখ সেইদিকে নয় !
বোকাদের সংগঠনেও আমার ঠাঁই নেই, চতুরদের ধারে কাছে ঘেঁষার সাহস রাখিনি কোনোদিনও, বুদ্ধিমানদের দলে যাবার এলেমও নেই !
ফলে, আমার অবস্থা সেই দর্শকের মতো, যে সবকিছুতেই মাথা নাড়িয়ে যায়, বুঝুক আর নাই বুঝুক !
ঘরে ফিরে এসে, সে নিজেকে বলে, যাক, মাথা নাড়াবার কাজটা তো করলাম !
একটি লেখা হয়ে ওঠলো কি না, বুঝতে, কম পক্ষে দশ বছর সময় দরকার ! তার আগে তা যদি আগুনে পুড়ে যায় বা কীটখাদ্য হয়ে ওঠে, তাহলে, অপেক্ষার প্রয়োজন নেই !
এ প্রসঙ্গে, কৃত্তিবাসে , তখন অক্রুর দত্ত লেন থেকে প্রকাশিত হতো প্রতি মাসে, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়কৃত এক গ্রন্থালোচনার কথা মনে পড়ে,
যা সেই সময় প্রচণ্ড আলোড়ন তুলেছিলো !
তিনি লিখেছিলেন, ...কাব্যগ্রন্থটি আগুনে দিয়ে দেখলাম, দাউ দাউ করে জ্বলছে !
কাটা মুণ্ডুও কথা বলে,
শোনোনি তা তুমি,
নুলো হাতে ধরে রাখি
হৃদকম্পনের সিলেবাস,
উড়ে যায় পাতাগুলি দূরে
উদ্যানপীড়িত রোদে
প্রজাপতিগুলি
নীল, নীল এনেছে আকাশে
নীল বুঝি একা এক স্বপ্ন ?
মাঝরাতে ঘুম
ভে ঙে গেলে নেমে আসে
তীব্র হাহাকার
কাটা মুণ্ডু পান করে এই
হাহাকার...অনেক জন্মের
ঋণ বোঝা হয়ে চেপে আছে,
তোমাকে কি দেবো ?
নাও তবে অন্ধ দুই চোখ
কাটা জিহ্বা, রক্তনীল জবা...
মহাপ্রস্থানের পথে যে কুকুরটি ছিলো পাণ্ডবের সঙ্গী, আজ তাকে কোথাও দেখি না ! বড় দরকার ছিলো তার !
অসমাপ্ত ছবি, আঁকো এই
মুখ, আড়ালে রেখেছো আজ
আঁকো ঠোঁট বঙ্কিম নয়ন,
গ্রীবা সহ সূক্ষ্ম কারুকাজ !
ফুরিয়ে গিয়েছে রঙ সব ?
এই নাও, রক্ত-পূঁজ, নীল
আঁকো তবে ভ্রুযুগল আর
খুলে দাও কুঠুরীর খিল !
আকাশ নেমেছে দুই বুকে
প্রবল চুম্বনে তাকে আঁকো
অসমাপ্ত ছবি, রঙে রঙে
গড়ে তোলো অন্তহীন সাঁকো !
মূলত আমারও দিন কাটে
মৃত্যুর পথ চেয়ে...
সে কথা বলিনি আগে ?
ওগো রাত্রির মেয়ে !
একটি জিরাফ আসে ঝাউবনে
খুঁটে খায় লাল ঝুঁটি
ঝাউবন তুলে দেয় তাকে তবু
আদরের রুটি !
এসব দৃশ্য দেখি একা একা
পৃথিবীতে এসে,
আবার দেখেছি, মৃতদের
নাচ জতুগৃহ শেষে
ধর্ষকও মজুরি পায়
রেগাময় গ্রামে...
মঞ্চশোভিত হয় পাপ
আর পূণ্যের নামে !
দিন কাটে আহত বাঘের মত
রাত, ফেরারীর বেশে
একে কি বলবে তুমি, বাঁচা ?
প্রাণহীন দেশে ?
দীর্ঘহাত রেখো, কুয়ো,
ঐ গভীরে তার স্পর্শ
নিও, উষ্ণতার মতো
থিরবিজুলীর ছায়া
ঘিরে আছে, ও শীতল,
প্রস্রবণ তবু জানে
কিভাবে ছড়িয়ে গেছে
গুল্মলতা, ও সবুজ
পিচ্ছিল সুড়ঙ্গ যেন
দীর্ঘহাত সেখানে কি
যেতে পারে, কুয়ো বিনা
সম্মতির পথ ধরে !
নিও, এই অন্ধকার,
বালতির টান টান
কথকতা সহ এই
গ্রীষ্মদিন, বর্ষাকাল...
আত্মকলহের পথে দেখা,
ঐটুকুই, বাকি
সব ছিলো তোমার গোপন,
পথ তো বন্ধুর,
ফলে, ব্রেক কষে যেতে হয়
লং ড্রাইভে, নাহলে, বোঝো,
এতদিনে, আত্মকলহের
রাত মুখরিত
হতো রশীদ খানের সুরে
বেজে ওঠতো কবিতা, পথ
বিপরীতগামী,
তবু ঘুরে এসে একদিন
মিশে যাবে কবরের পাশে...
এই জেনে, তুমি
পরিক্রমা করো একা একা
দুপুরের বাসে,
দুপুর আমাকে টানে এক
অবৈধ কলোনী থেকে আর
এক কলোনীর
দিকে, যেখানে তোমার বাস
আত্মকলহের ঘোর পথে !
এক আধটু লিখি, ভাই !
নেশা বলতে, এটুকুই !
বাকি কথা বাকিই থাক !
সংজ্ঞামাত্রই বিপজ্জনক এবং একই সঙ্গে বিভ্রান্তকরও বটে !
হয় তো একারণেই নানা সংজ্ঞার আয়োজন ! এই আয়োজনে উপকারের চাইতে অপকারই হয়েছে বেশি !
অন্ধের হস্তিদর্শন কথাটি এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য !
সংজ্ঞা মূলত ব্যক্তির নিজস্ব ধারণা, কোনরকমেই তা সর্বজনীন নয় ! কেন না, তা পূর্ণকে ধরতে পারে না, স্পর্শ যদিও করে, তা অংশত !
শিক্ষক নন, তাঁরা গুরু...
আমার অন্ধকার প্রাণে বারবার আলো জ্বালাতে চেয়েছেন...তাঁদের মধ্যে যাঁকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, তিনি, সুহাস স্যর, সুহাস মিশ্র !
গণিত যে মূলত কবিতা, তিনিই বলেছিলেন সেই কবে...
তাঁকে প্রণাম...
ডুমুর কিনতে গিয়ে মনে পড়লো তোমার কথা...
ডুমুরের কেউ নও তুমি,
তোমার ডুমুরশোভা তোমাকে যতটা আনত করেছে, শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে তার বেশি !
ব্যাগে তুলে নিতে নিতে দেখি
ডুমুরবিক্রেতার ঐ মুখ, ক্ষুধার্ত, লাজুক, কিছুটা ভয়ার্ত !
ডুমুর প্রসঙ্গে এইসব কথা
লিখে রাখি গোপন ডায়েরি জুড়ে, যদি কোনোদিন কোনো এক নির্জন গভীরে পড়ে ফেলো, এটুকু কামনা করে মৃত এই কবি...
সকাল দশটায় আমাদের সকাল হলো আজ !
বহুদিন পর, আজ, রবিবারকে রবিবার মনে হচ্ছে !
শুধু বাজারটাই করা হলো না আর !
রবিবারও চলে যাচ্ছে, যেমন সকলে চলে যায়, পেছনে পড়ে থাকে দীর্ঘশ্বাস, একা !
আজ এই দীর্ঘশ্বাস বহন করছি, একা !
জানি, সকল মিথ্যার মাঝখানে, তুমিই উজ্জ্বল সত্য, দীর্ঘশ্বাস তুমি, আমাকে জাগিয়ে রেখেছো, মৃত্যুর পথে...
বার বার বলেছি, দয়া করে, আমাকে আর ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না কেউ !
বন্ধু শব্দটির ভার ও ভর বহন করার ক্ষমতা আমার নেই, আমার চতুর্থঘর দগ্ধ, আজন্ম বন্ধুহীন আমি ! ফেসবুকে যাদের ভালোবাসা পাই, স্নেহ পাই, তা সেইসব উদার এবং মহত্ মানুষের জন্য পাই...
তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই...
আজন্ম ভিখিরি, ফলে, সদর দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে সকলেই, পিতা থেকে শুরু করে নদীটিও !
প্রিয় রেললাইন, সেও !
সিলিংফ্যান, ঘুমের বড়ি সহ সকলেই !
সদর দরজা আজ খোলা, তবু তা আমার জন্য নয় !
বাস্তব বলে যাকে তুমি চেনো, সে আসলে তোমার কল্পনা !
সত্য সত্য নয়, মিথ্যা মিথ্যা নয়, এ কেবল এক ভ্রম, অথবা আশ্চর্য এক স্বপ্ন, যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছো...অথচ পারছো না...
এই ঘোর লাগা জীবন তোমার, তুমি এর ঘূর্ণীপাকে ক্রমে ডুবে যাচ্ছো...
নঞর্থক আর সদর্থক এই দুইয়ের মধ্যে আপাত বিভেদ থাকলেও এরা যে একই ভাবের দুই রস, এটুকু যদি কেউ না বোঝে, তাকে পঞ্চাশজন শিক্ষক দিয়েও বোঝানো সম্ভব নয়...
এ প্রসঙ্গে, শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর একটি কবিতার পংক্তি উচ্চারণ করা যেতে পারে :
সকল নাস্তি ছুটে যাচ্ছে অস্তির দিকে...
আশ্চর্য ! আজ কি পূর্ণিমা ?
আকাশে দুটি চাঁদ কেন ? না কি কোনো ভাদ্রসুন্দরীর কপালের টিপ ?
না, ভদকা তো খাইনি ! তাহলে ? আফিম বা গাঁজাও খাইনি ! অথচ দিব্যি দুটি চাঁদ, পাশাপাশি, জ্বল জ্বল করছে !
চশমাও তো নতুন !
তাহলে ?

Friday, August 29, 2014

কোনো যোগ্যতা নেই, বলে, কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম ! হায়, তখন কি জানতাম, এ যে দাবাখেলার চেয়ে কঠিন, এভারেস্ট অভিযানের চেয়ে বিপদসংকুল !
কবিতা দাবি করেছিলো আমার জীবন, দিয়েছি ! দাবি করেছিলো মগ্নতা, মগ্ন হয়ে দেখেছি, কবিতা আসলে পাশের বাড়ির সেই নারী, যাকে জানালা দিয়ে দেখি, ছোঁয়া যায় না !
কবিতাপ্রেমিক হয়েই এ জীবন কেটে গেলো, কবিতাকে স্পর্শ করতে পারলাম কই ?

এ জানলে, আর যাই হোক, এ লাইনে পা দিতাম না !
মরণও যাকে অপছন্দ করে, সে আমিই...তবু, কবিতা, তোমার জন্য এই জীবন...

মনে রেখো...
ঈশ্বর কোথায় থাকেন ?
তার বিরুদ্ধে আমার অনেক নালিশ !

জানি, আমার বিরুদ্ধেও তারও অনেক অভিযোগ আছে !
আমি তার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছি !

তিনি যদি বিদ্যমান হতেন, আমাকে নিশ্চয় ঘোড়ার সহিস করে পাঠাতেন, এভাবে ফেসবুকার হয়ে জীবন কাটাতে হতো না !
ঘোড়ার সহিস হলে, কবিতাকে বলতাম, চলো, বেরিয়ে পড়ি ! সময়ের ইন্তেকাল দেখে আসি !
নীরব এই রাত্রি একা কাঁদে...
তার অশ্রু, লোকে ভাবে, ভোরের শিশির...
আজ কি বার ?
মনে আসছে না কেন ?
কাল কি মদমত্ত ছিলাম ?
মদ ? সে আজকাল ছেড়ে দিয়েছি !
তাহলে ?
আজ কত তারিখ ? এটা কি সেপ্টেম্বর ? নাকি আশ্বিন ?
সব গুলিয়ে যাচ্ছে কেন ?

এই যে, দাদা, উঠে পড়ুন, আর কত ভ্যানতারা করবেন ! এবার চেম্বার বন্ধ করতে হবে ! রাত হয়ে গেছে !

রাত ? রাত মানে তো জেগে থাকা, অসহ এক নিঃসঙ্গতা নিয়ে !
জেগে থাকি কেন ? আমি কি রাতের পাহারাদার ?

গতজন্ম হাসে, বলে ওঠে, অভিশপ্ত পুরুষ ! আরও তিনজন্ম অভিশাপ জর্জরিত থাকো !
রহস্য থেকেই গেলো, কেবল পাতা উড়ে গেছে কাহিনী থেকে...

রাস্তা পার হতে গিয়ে, দেখি, অন্ধ লোকটির মতো
আমিও দাঁড়িয়ে আছি
আগুনের উপর...

একে কি জীবন বলে ?
ধর্মশাস্ত্র, নিজেই জানে না...

পাতা ঝরে যায় শীতকাল জুড়ে...
জেগে ওঠো প্রাণ...
আয়নার ওপার থেকে এসো
প্রতিবিম্বহীন পায়ে...
বাল্যশিক্ষায় অজ আর আম বলে অক্ষরজ্ঞান ও শব্দজ্ঞান দেওয়া হয়েছে, এই শব্দগুলির অভিধা জানি আমরা, কিন্তু এই শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ কি ?
ক্ষতি কি, যদি হারিয়ে যাই কোনোদিন ?
ক্ষতি কি, যদি আকাশ একদিন নীল না হয়ে তুঁত রঙ হয়ে ওঠে !
গণিতসূত্রগুলি যদি কাজ না করে কোনোদিন,
যদি, নদী তার গতিপথ পালটে উজানে ধাবিত হয়, ক্ষতি কি ?

এতকাল সব সূত্র মেনে, দেখা গেছে, যন্ত্র হয়ে গেছে মানুষ, ব্যাংকসভ্যতা কাছে লাভ-ক্ষতির হিসেব শিখতে শিখতে, মানুষ জেনেছে, অস্ত্রই ক্ষমতার সোপান...
ক্ষতি কি, এই জানা থেকে যদি এক বিপল দূরে সরে থাকতে পারি ?

নিরাপত্তা ভাবি যাকে সে আসলে বাঘের খাঁচা !
আয়না, তুমি কার ?
আয়না হেসে ওঠে, বলে, যে দেখে, তার...

আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি, পারা উঠে গেছে তার, অস্পষ্ট চেহারা...

আয়না, এ কোনজন ?
নীরব এক হাওয়া বয়ে গেলো, শির শির করে ওঠেদেহকাণ্ড !

আয়না...এ যে আমি নই...এই কঙ্কাল, মুণ্ডুহীন...

এই তুমি, এই তুমি...
জীবনের চাইতে বড় নাটক আর কিছু নেই !
প্রতিটি মুহূর্ত সাসপেন্সে টান টান...
কাল যা ঘটেছে, আজ তার বিপরীতই যদি ঘটে, অবাক হবার কিছু নেই !

আজকাল আমি আর অবাক হই না একারণেই !
না, এই কথাটির তীব্রতা, তার কম্পনা ঙ্কের মাত্রা মূলত প্রতিষ্ঠা করে হ্যাঁ-এর অন্তররূপকেই, ফলে, না বা হ্যাঁ, দুইই এসে দাঁড়িয়েছে গণিতসীমানার বাইরে, যেখানে সংসারসীমা নেই, আছে এক মগ্ননির্জনতা, এই নির্জনতা অন্তরলোকের...
সংজ্ঞাতীত এই সব মূলত উপাসনাজীব্য নয়, কেবল.অনুভবের !
ইট ও বালির কথা লোকে বলে, আসলে গৃহনির্মিত হয় লোভ ও কামনা দিয়ে ! নিরাপত্তা হিসেবে লোহা, মূলত তা স্বপ্ন ! সিমেন্ট ? তা ঐ ভালোবাসা !

আমার কোনো ঘর নেই, ফলে, স্বপ্নও নেই...
আমি শুধু চেয়েছিলাম একটি নদী সারাজীবন থাকুক আমার কাছে, সন্ধ্যা সহ বসে থাকবো তার সান্নিধ্যে...
সন্ধ্যার ঐ কাতরতা টের পাই, নদীর জলে উন্মাদিনীর মতো
ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার কাটছে, তার খোলা চুলে লেগে আছে সূর্যাস্তের রঙ...
আমি চেয়ে দেখি এই অপরূপ দৃশ্য...বড় মায়া লেগে আছে এই দৃশ্যে...আর একান্ত ভালোবাসাও !
সন্ধ্যা কি আমার কাতরতা অনুভব করে ? কখনও ?
জীবন ? মানে ঐ সাপলুডো খেলা ? ঐ গা ছমছমে অন্ধকার ? খালি ক্লাসরুমের ঐ শূন্যতা ?
না কি, ঐ মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি ? ভোরের আজান ?
বাচ্চাকাচ্চা পয়দা করে ঢেঁকুর তোলা ?
ঘরবাড়ি, ব্যাংকব্যালেন্স ?

জীবন, তুমি জানো তোমার মানে ? মধ্যাহ্ন বা রাত্রি ?
জানো তুমি, কাকে বলে দীর্ঘশ্বাস ? কাকে বলে প্রাপ্তি ?
স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝখানে এক বৈতরণী, যার সর্বগ্রাসী স্রোত আর ঢেউ আছড়ে পড়ছে কূল ছাপিয়ে, এখানেও...
হা হা করে ছুটে আসছে অন্ধকার, আর আমি, ঐ অন্ধকারের ভেতর খুঁজে বেড়াচ্ছি স্বপ্নের নীল হাড়গুলি...

জানি, একদিন, এই বৈতরণী পার হবো, এই হাড়ের নৌকো করে...

ততদিন, হ্যাঁ, ততদিন প্রতীক্ষা করো, স্বপ্নময় দিনগুলি !
সমস্ত পথ জুড়ে আজ শুধু দীর্ঘশ্বাস...
পথে নেমে, ফিরে তাকাতে নেই, কিরণমালা একথা জানে...দ্বিধা-দ্বন্দ্ব জয় করে যেতে হয় এগিয়ে !

অরুণ-বরুণ পারেনি, কিরণমালা পেরেছিলো !
জয় বাবা মহারাজ !
জয় শ্রী শ্রী 108 বাবা মহারাজ ! আপনার কৃপায় আমার অন্তহীন সুখ ! এই দালানবাড়ি, ব্যাংকব্যালেন্স, বেতন ছাড়াই টুপাইস কামাই, এই হাঁকডাক, সকলই আপনার অপার করুণা !
আপনি ঈশ্বরের সাক্ষাত্ এজেন্ট, জানি না, আপনার কমিশন রেট কত ! তবে , মনে হয়, মোটা কমিশনই মেলে ঈশ্বর কোমপানী থেকে !
না হলে ঐ তেল-মাখন চেহারা হবার কথা নয় !
সে যাই হোক, যে কথা বলছিলাম, আপনার কোমপানী কি ইদানীং আরও এজেন্ট নিয়োগ করতে যাচ্ছে ?
যদি করে, আমার এক ক্যাণ্ডিডেট আছে, একটু দেখবেন !
তার জন্য আপনার বামপকেট ভরে দেবো ! না না, এটা জাস্ট ভালোবাসার উপহার !
নিয়তি কেন বাধ্যতে, এই প্রবচনটির মানে এখন টের পাই, শত প্রয়াসেও যখন ভাগ্যের, দরজা থাক, জানালাটা পর্যন্ত খোলে না, যখন দেখি, খলনায়িকার মত নিয়তি হেসে যাচ্ছে নীরবে, টের পাই, এই অন্ধকার ব্যতীত আমার আর আশ্রয় নেই...

অভিশপ্ত এই জীবনের শেষদিনগুলি গিলে খেতে আসছে আমাকে...

ঐ হাঁ...স্থবির ছাগশিশু যেভাবে অজগরের সামনে থাকে, আমিও আছি, হ্যাঁ, ঐ হাঁ-য়ের মুখে !
স্বপ্নতাড়িত আমার জীবন, স্বপ্ন দেখি না, তবু এসে হানা দেয় বারবার ! সে সব স্বপ্নের ইশারা আমাকে আগত বিপদের সংকেত দিয়ে যায়, আগেও দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে !
টের পাচ্ছি, এই কয়েকমাসের মধ্যে লাফ মেরে আমার ঘাড়ে চেপে বসবে বিপদ বা বিপর্যয়, অবধারিতের দিকে তাকিয়ে আছি, কোনদিক থেকে আসবে, তা জানি না বলে, এই অসহায় তাকিয়ে থাকা !

আকাশের নীল ফিকে হয়ে গেছে, বলে, তা নীল করে তুলবো, ভাবছিলাম ! হায় ! তা করে ওঠার সময় পাবো তো ?

না কি তার আগেই আমার টুটি চেপে ধরবে সমূহ বিপদ ?
শূন্য মানে শূন্য নয়, সে কখনও কখনও পূর্ণও বটে !

এই কখনও কখনও যে কখন, তা জানি না, বলে, এত জটিলতা !

ঐ পূর্ণ-এর লোভে, পা বাড়িয়েছি শূন্যের দিকে...
একটা প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য সকল লেখা থেমে আছে...
একটা শব্দ...

আমি একা নই, সন্ধ্যাও কাঁদছে আমার সঙ্গে...

রাত নীরব, সকালও ডুবে যাচ্ছে আশ্চর্য এক নৈঃশব্দে...

Monday, August 18, 2014

নিজেকেই কাটি, টুকরো টুকরো করে,
জুড়ে দিই সব, খুঁজি তন্ন তন্ন করে !
দুজনের চাহিদা আলাদা !
জীবন শরীর চায়, মরণ অশরীর !
কতটুকু পথ গেলে স্তব্ধ হবে হৃদয়স্পন্দন ?
কত কথা বলা হলে নীরবতা
হবে ভাস্বর ?

বলো, আমার মরণ !
সামান্য লেখালেখি, এটুকুই আশ্রয়, এটুকুই সান্ত্বনা ! এই নিয়ে বেঁচে আছি এতদিন !
তারপরও যখন দেখি, কেউ কেউ আমার এসব লেখালেখি খুঁজে পড়ছেন, তখন তা মনে হয় এক স্বপ্ন !

আমি তো আর লেখক বা কবি নই !
লেখকদের এসব জলভাত !
কাঠঠোকরাটিকেও দেখি,
খুঁটে খায় কাঠ, তাহলে এই দাঁড়ালো, কাঠেও রয়েছে খাদ্য ও পানীয়গুণ !

এই দেখা সরলতা মাত্র, অংশত বিভ্রম,
সকল দেখার মত বিভ্রমরচিত এই দেখা
কবিকে বিপন্ন করে, ভেতরে ভেতরে
কিছু ঘুণপোকা তাকে খায়,
ফাঁপা, অন্তঃসারহীন দিনগুলি রাতগুলি তাকে
ঘিরে ধরে, নাচে, নেচে যায়...

সে তখন ভাবে, প্রার্থনাও করে, একা
কাঠঠোকরাটি এসে তাকে যেন খুঁটে খায়
বৃক্ষের মতন,
আসলে তো তাকে নয়, ঐ ঘুণপোকাগুলিকে...
পথে পথে ওড়ে ঐ নিশান...
সে নিশানে লেখা নেই নাম

নামে কি বা এসে যায়, না কি,
ঐ নামৈব কেবলম ! কে দেবে উত্তর ?

সকলেই ব্যস্ত আজ আপন লা ঙ্গুল
নিয়ে, সভাঘরে হবে বুঝি

লা ঙ্গুল নাচানো খেলা, যদি
জোটে কোনো অপূর্ব খেতাব !

পথে পথে জয়ধ্বনি, খেতাবদাতার,
ধুলি ওড়ে প্রাপকের মুখে !

নাম যায় মুছে বাসি কাগজের মতো
তবু জানি এই, যে, নামৈব কেবলম...
দিন কাটুক সুখে...
রাত কাটুক সুখে,

একে অপরের পাশে থেকে...
ভালোবেসে...
দেখো, দেখো, আজ আকাশ কাঁদছে ঠিক তোমার মতো !
গতজন্ম, ছায়া রেখে গেছে,
সে ছায়ার ডানা
দেখি, তোমার পিঠের ঐ যে,
দাগ, তিল নয়,
অস্পষ্ট কালির মতো লেগে
আছে রন্ধ্র জুড়ে,

তুমি তো জানো না, এই
বিষাদের কাছে
ঋণ রেখে চলে গেছে উজ্জ্বল সবুজ

তাকে ডাকো, ফিরিয়ে দিও না,
বলো, গতজন্ম,
লেগে আছে ছায়ার মায়ায়...
নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো...
আবার, দুষ্ট গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালো...এই দুটি প্রবাদ বাক্য পরস্পর বিরোধী, না কি, পরিপূরক ?
মেরা ভারত মহান, এটা মালুম হয় নেতা ও চামচাদের দেখলেই...
অন্ধকার
@
দুটিই পথ, একটা চলে গেছে রাজফটকের দিকে, অপরটি তোমার দিকে...
কথা
@
একটিও শব্দ নেই
উচ্চারণ নেই

যা আছে, তা ঐ মুখর নীরবতা !
অনেক কেন-র উত্তর দেওয়া যায় না, বুঝে নিতে হয়...
অনেক কথা বলা যায় না, নীরবতা দিয়ে তা প্রকাশ করতে হয়...

এটুকুই জেনেছি আমি...
কাকে ভালোবেসেছিলে তুমি ?
নিজের ছায়াকে ?

সন্ধ্যা আসে কাছে,
বলো, কাকে ভালোবেসেছিলে ?

রক্তাক্ত চুমুর দাগ মুছে না কখনও,
একথা জানো কি তুমি ? না কি

সকল সূত্রের মত চোখের কালিতে
ধরে আছো গতজন্ম প্রেম ?
গলিত স্থবির ব্যা ঙ দু-এক মুহূর্ত ভিক্ষা মাগে
অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে...

এই 'অনুমেয়' শব্দটির অমোঘ শক্তির কথা ভেবে যাচ্ছি...

Do u feel it ?
বিষাদস্পর্শ ব্যতীত মহত্ শিল্প বা সাহিত্য সম্ভব নয়...
বাঁচার তাগিদ আর অনুভব করি না, কথাটির আড়ালে যে আকুলতা প্রাণের, তা মূলত সৃষ্টির প্রাকশর্ত, অনুভূতির আলো জ্বলে উঠলেই, ঐ বাক্যটির অভিমুখ যাবে সরে ! আর এই আলো জ্বালতে পারে ভালোবাসা, হয় তো, একারণেই, কবি হয়ে ওঠেন চিরপ্রেমিক, বিপ্লবী রোমান্টিক !
তারপরও আত্মহত্যা করতে হয়েছে কবিকে...
তাহলে কি আত্মহননের বীজ লুকিয়ে থাকে প্রাণের কুসুমে ?
কাল স্বাধীনতা দিবস !
স্বাধীনতা মানে কি ?
বড় সংশয়, এ নিয়ে ! 67 বছর হয়ে গেলো, এদেশের মানুষ এখনও রয়ে গেলো পরাধীন ! এখনও বণ্ডেড লেবার আছে, এখনও আত্মহত্যা করতে হয় কৃষককে !
এ আমরা কোথায় আছি ?
দলসর্বস্ব না হলে, এদেশের মানুষ বাঁচতে পারে না, বেঘোরে দিতে হয় প্রাণ !

এই কি স্বাধীনতা ?

জনপ্রতিনিধি নামে সৃষ্টি করা হয়েছে এক ধরণের আজব জীব, যাদের ক্রীড়ণক হয়েই বেঁচে থাকতে হয় জনগণকেই...

এই দেশেই নারীনির্যাতন সবচাইতে বেশি, নারীর অধিকারের নামে তাদের উপর বৃদ্ধি হয়েছ আরও নির্যাতন !

এই আমার স্বদেশ !
মাঝে মাঝে ভাবি, একদিন, সবকিছু পালটে যাবে ! একদিন, নিপীড়ণ শব্দটিই থাকবে না এই জগতে আর অভিধানে ! এরকম আরও কিছু শব্দ, এই যেমন, ধর্ষণ, শোষণ, শাসন, অত্যাচার, অহংকার, আধিপত্য বা ঐ পাপপূণ্য, মোক্ষ, অন্ধত্ব কথাগুলি মুছে যাবে চিরতরে !
মানুষ তার মতো করে বাঁচবে, তার মতো করে রচনা করবে তার.আপন জগত !

হায় ! আমার ইচ্ছা কি পূরণ
হবে কোনোদিন ?
কাটামুণ্ডু নাচে আজ অন্ধকার মঞ্চে...
পল্লব ভট্টাচার্য, কবি ও ঔপন্যাসিক, আজ সকালে, হঠাত্, আমাদের ত্রাণশিবিরে এসে, উপস্থিত ! সঙ্গে খোকন সাহা !
আমার মতো ছাপোষা লোকের ঘরে তার আগমন, নিঃসন্দেহে, বিশাল ব্যাপার ! আমি তো যারপরনাই আহ্লাদিত !
পল্লব মানেই নির্ভেজাল আড্ডা ! সে আড্ডা, ততক্ষণে, সাহিত্য থেকে পর্যটনে চলে গেছে, আর আমরা ঊনকোটিতে !
ত্রিপুরার পর্যটন মানচিত্রে ঊনকোটির উল্লেখ থাকলেও এই স্থান নিয়ে তেমন হেলদোল নেই স্থানীয় জনগণ থেকে জনপ্রতিনিধি কারও, এমনকি, পর্যটন নিগম আলো করে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিদেরও ন যযৌ অবস্থা !
সপ্তম থেকে নবম শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই ঊনকোটির ভাস্কর্য সমূহ আমাদের গর্ব হয়ে উঠতে পারতো, পারেনি উপেক্ষার কারণে ! এক বিশাল এলাকা জুড়ে, পাহাড়ের গায়ে, কে বা কারা এইসব অসাধারণ ভাস্কর্য গড়ে তুলেছিলেন আজ আর কারও জানা নেই !
জানা নেই, কতদূর বিস্তৃত ছিলো এই ঊনকোটি ! কেউ জানার আগ্রহও দেখাননি কোনোদিন !
ঊনকোটিতে এখন যারা যান, তারা দেখে আসেন কিছু ভাস্কর্যের ফসিল আর উলটো দিকের পাহাড়ে একটা চালার নিচে রাখা কয়েকটা মূর্তি ! এসব দেখে, দ্বিতীয়বার যাবার কথা ভাববেন না কেউ ! অথচ চিনিবাগানের দক্ষিণ দিয়ে গেলে পাহাড়ের উপরে যে বিশাল শিবমূর্তিটি আছে, তার গলার সাপ দেখলে, আমার বিশ্বাস, কোনো শিল্পপ্রেমীই ফিরে আসতে চাইবেন না ! ঐ সাপটির চামড়ার যে কারুকার্য তা বিস্ময়ের !
অথবা ঊনকোটির ঝর্ণা বেয়ে নেমে আসা জলজাতলক্ষ্মী ছড়া দিয়ে হেঁটে গেলে যে সকল ছিন্নভিন্ন মূর্তি দেখা যায়, তা এখনও দাবি রাখে গবেষণার !
হায় ! এসব কে করবে ?
পল্লব কিছুদিন কৈলাসহরে ছিলো মহকুমা শাসক হয়ে ! সেও তার আক্ষেপের কথা বললো !
কৈলাসহরবাসী কৈলাসহরেই আছেন, এসবে মন দেবার ফুরসত তাদের আর কই ? পর্যটন নিগম নিগমিত হয়েই আছে, মাঝপথে ঊনকোটি বা পিলাক ধ্বংসই ভবিষ্যত বলে প্রতীক্ষা করছে !
feeling pained.
সত্তর দশকের মাঝামাঝি তখন, জরুরী অবস্থা জারি হয়নি, 11 অক্রুর দত্ত লেন থেকে প্রকাশিত হতো কৃত্তিবাস ! মাসিক পত্রিকা হিসেবে ! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদক ! কবিতার পাতা দেখছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, প্রিয় সম্পাদক ও মিনি বিজ্ঞাপন দেখছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় !
কর্মসূত্রে আমি তখন কৃত্তিবাসের সঙ্গে জড়িত আর মিনি বিজ্ঞাপন-এর পাতার কাজ করছি সন্দীপনদার তত্ত্বাবধানে !
মনে আছে, সেই মিনি বিজ্ঞাপনগুলি হয়ে উঠেছিলো গোপন যোগসূত্রের উপায়, এই যেমন, ক রবীন্দ্রসদনে বিকেল তিনটায় থেকো ! ম !
কাকে বলা হলো কে বললো, বোঝার উপায় নেই, কিন্তু যার বোঝার সে বুঝে গেলো !
মনে আছে, নকশালপীড়িত কলকাতার সেই দিনগুলিতে পুলিশের কাছে এই মিনি বিজ্ঞাপনও হয়ে উঠেছিলো আতঙ্কের, ফলে, বাধ্য হয়ে, পঞ্চানন ঘোষালের মতো ডাকসাঁইটে গোয়েন্দা পুলিশ অফিসারকে ছুটে আসতে হয়েছিলো কৃত্তিবাস অফিসে !
আজ ফেসবুকেও এরকম ইশারাময় ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস পোস্ট হচ্ছে, যা কেবল যাকে বলা হচ্ছে, সেই জানে এবং বোঝে, অপরে নয় !
অসামান্য, এই কথাটির ভর ও ভার এত পলকা নয় !
একটি দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দেখি তোমার ছবিতে...
সারারাত জেগে থাকার ক্লান্তিও...

আমি তো দরজার পাশে দাঁড়িয়েই ছিলাম !

ভোর হয়ে এলো...
ডাকলে না !
এক বাড়িতে, তাদের বসার ঘরে, সুতো দিয়ে কিছু প্রচলিত বাণী লিখে, কাচের ফ্রেমে বাঁধিয়ে, টা ঙানো এক ফ্রেমে দেখলাম, লেখা আছে সংসার সুখের হয় রমণের গুণে !

চমকে ওঠার আগে, গৃহস্বামী বলে উঠলেন, কথাটা কত সত্য, এখন বুঝতে পারি !

ভাবি, শব্দ কত ভয়ংকর, বিপজ্জনক ! নারীকে রমণী করে তোলা হয়েছে, রমণের স্বার্থে !
আর এখানে রমণীর গুণ নয়, রমণ-মাহাত্ম্যই বর্ণিত !
সম্পর্ক মানে বন্ধন, বন্ধন মানে কিছু শর্ত আর শর্ত মানেই চুক্তি !
নর-নারীর সম্পর্ক যদি চুক্তিরচিত হয়, তা হবে বাজারের, হৃদয়ের নয় ! সমাজ নামক আজব শাসনব্যবস্থা এই বাজারকেই স্বীকৃতি দেয়, হৃদয়কে নয় !

সমস্যা এখানেই !
রবিবার গেলো অর্থহীন...
তবু কিছু ঋণ
থেকে গেলো পরজন্মলোভে

প্রেমে ও বিক্ষোভে !
ভারতীয় সমাজে সেসব দেব বা দেবীই অতিপূজ্য যারা মূলত কামুক...
কৃষ্ণ, শিব, কালী...

বিষয়টা ভেবে দেখার, কেন না, এ দেশে এখনও লি ঙ্গ এবং যোনিপূজার যা রমরমা, বিস্ময় উদ্রেক করে !
মনসা এক লোকদেবী, মঙ্গলকাব্য থেকে উঠে এসেছেন তিনি, মূলত গ্রামবাংলার সহজসরল মানুষের বিশ্বাসরচিত দেবী !
চাঁদ সদাগরের কাহিনীর আড়ালে মনসামঙ্গলও আধিপত্য বিস্তারের এক অনির্বচনীয় চিত্রপট !

Wednesday, August 6, 2014

যা ভাবি, তা লিখি না, যা লিখি তা ভাবি না !
তা হলে, এই দাঁড়ালো, যা লিখি, তা বানানো ! লেখা নিজে লেখককে দিয়ে লিখিয়ে নেয়, বলে, এই সমস্যা দেখা দেয় !
একটা চরিত্রের সন্ধানে যেতে যেতে কত বাঁক পার হতে হয়, তা লেখকই জানেন ! আমার গ্রামের বঙ্ক খুড়ো আমার কোনো লেখাতেই উঠে আসেননি ! অথচ একজন গল্পকারের কাছে লোভনীয় চরিত্র বঙ্কখুড়ো, যিনি সন্ধ্যে হলেই বেরিয়ে পড়তেন জুয়ো খেলতে ! না, ডস্টয়েভস্কির নায়ক তিনি নন, অথচ তার চরিত্রেও নানা ধরণের শেড আছে !
কতবার তাকে লিখবো, ভেবে, বসেছি, পারিনি ! তার বদলে উঠে এসেছেন অন্য কেউ !
তাহলে, এই অন্য কেউ কি মিথ্যা ? বানানো ?
শূন্যের ঝড় গল্পে যে কাপালিক উঠে এসেছিলো, তাকে তো কোনোদিন দেখিনি আমি ! এক আশ্চর্য ঘোরের ভেতর ঐ চরিত্র উঠে এলো গল্পে, যার জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম আমি !

লেখা নিয়ে তবু ভাবতে হয় ! মনোজগতের ঐ আলো যদি লেখায় ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে যে মাটি হয়ে যাবে লেখাটা-ই !
বন্ধু কে ?
চাণক্যলিখিত সূত্র মেনে নিতে গেলে, এই যুগে, বন্ধুলাভের সুযোগ আর থাকে না ! আবার ভার্চুয়াল জগতের দিকে তাকালে, সকলেই বন্ধু ! এদের বায়বীয় বন্ধুও বলা যেতে পারে !
বায়বীয় কথাটি বিপজ্জনক, তার বর্শামুখ উদ্যত থাকে নিজের দিকেই ! তবু মজা করার লোভ যাবে কোথায় ? এই বায়বীয় বন্ধুদের একজন সরদার ফারুক, যাকে কোনোদিন চিনতাম না, জানতাম না ! গতবছর, পুজোয়, ঢাকা গেলে, ফারুকই কমলাপুর বাসস্ট্যাণ্ডে রিসিভ করতে এসেছিলো আমাদের, আমার ইলিশপ্রীতির কারণে আটটা ইলিশ কিনে ফেলেছিলো সে ! বায়বীয় থেকে রক্তমাংসের বন্ধু হয়েছিলো ফারুক !
অথবা আমীর চারু ? আজ পর্যন্ত দেখিনি তাকে ! মিশর না কোথায় যেন থাকেন তিনি ! ঢাকা গিয়ে কোথায় থাকবো, এ নিয়ে তার কত দুর্ভাবনা সেবার ! শেষ পর্যন্ত ঢাকার এক থ্রিস্টার হোটেলই বুক করে ফেললেন আমার জন্য ! থাকাখাওয়ার যাবতীয় খরচ আমীর চারুর ! না-দেখা এক বায়বীয় বন্ধুর জন্য মিশরে বসে এতদূর করা, আমার চিন্তার বাইরে !
সুতরাং, বন্ধু কে, এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে হতবাক হয়েই থাকি বারবার ! কেন না, যাকে বন্ধু ভেবে উজার করে দিয়েছিলাম কোনো এক সময়, সে-ই আমাকে পেছন থেকে ছুরি মেরেছে, সেই রক্তক্ষরণ এখনও থামেনি !যাকে স্নেহ করেছি অনুজের মতো বা তারও বেশি, তার গোপন কলকাঠির আওয়াজ কানে বাজে এখনও ! তবু সেই আপ্তবাক্যটির শরণ নিই আজও, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো মহাপাপ ! এখনও বিশ্বাস করি মানুষকেই !
তুমি যেই হও, তুমি জাহান্নম দেখো নাই, আইসো, তোমারে দেখাই ঐ জাহান্নম !
হগ্গলে স্বর্গের কথা কয়, আমি কমু, স্বর্গ বইলা কিছুই নাই, নরকও নাই !
তয় ?
বিন লাদেনরে চিনো ? ওবামা ? পুতিন ? চিনো না ? হামাস না খামাস কয় যে, তারে ?
চেনা চেনা মনে অয় !
চিনবা, চিনবা ! জাহান্নম গেলে হগ্গলরে চিনবা ! মৌলভী, পুরুত, ফাদার সব চেলা ! জাহান্নম চালায় তারা-ই !
ঘর আলাদা, চেহারা আলাদা ! অথচ কাম এক ! লক্ষ্য এক !
মাইনষরে বানানো বোকা !
আইসো, আইসো, জাহান্নম কিচ্ছা হুনতে আইসো একদিন !
শ্রাবণের কথা তুমি বলেছ অনেক,
ধারাপাতহীন রাতে আমিও বলেছি
ঢেউহারা নদীটির শান্ত কথকতা !

অমরাবতীর পথে আমরা চলেছি,
শত শত যুগ ধরে দেখেছি অনেক
রক্তপ্রপাতের স্রোত, আদি তঞ্চকতা

প্রেম এসেছিলো তবু ভিক্ষাপাত্র হাতে
ভুবন হারানো পথে, কথা কয়ে গেছো
তুমি, একা একা, আমি শুধু নীরবতা !
জেনে নিও, জিহ্বা খসে গেছে
ব্রহ্মহৃদয়ের, ছায়াপথ জুড়ে তার
চিহ্ন আছে পড়ে, যেন তারা
ভোরের বকুল, সবুজ ঘাসের 'পরে

এই অন্ধ চোখে, এসব দেখেছি বলে
অভিশাপ দিয়ে গেছে নীহারিকাকণা,
উল্কাপাত ঘটে তবু, সূর্যাস্তের পরে,
ছায়াপতি একা মরে আমার নিভৃত

ঘরে, তাকে বলি, ঘনালো সময় তবে!
ধ্বংস হয়ে যাবে এইঘন ছায়ালোক !
পা বাড়ালাম তোমার কাছে যাবার জন্য এই বেলা,
গোপন কথা রইলো পড়ে জুতোর মতো, স্যাণ্ড্রেরেলা !
হাতের শিরা কেটেছিলাম তোমার জিভে, নখে নখে,
এবার হবে মরণ খেলা পূর্ণমাসীর চোখে চোখে !

তোমার কাছে যাবার জন্য পা বাড়ালাম দশমীতে
উষ্ণতা আজ খুব জরুরী, রুটির মতো, এই শীতে !
আধেক দিও অমাবস্যায় আধেক রেখো পূর্ণিমাতে,
সাজিয়ে রেখো সক্রেটিসের পানপাত্রটি মধ্যরাতে ,
অস্তবেলার গরলশয্যা তোমার তীব্র মোহনাতে...
তোমার কাছে এবার যাবো শ্রাবণ শেষে সন্ধ্যারাতে !
সবুজ গালিচা, উড়ে এসো
আরব্য-উপন্যাসের পাতা থেকে এই
শ্রাবণদশমী শেষে, বদ্বীপ সাজিয়ে
রেখেছে নরম রেশমের ঐ মেয়েটি,
উড়ে এসো যাদুকাঠি হাতে !

ঘন উপত্যকা জুড়ে পরিত্রাহি মাম,
আছড়ে পড়েছে ত্রস্ত ঢেউ,
দুকূল ভাসিয়ে জল একা উঠে আসে অন্ধকারে,

মেয়েটি জানে না, কতদূর যাবে ভেসে মোহনার ঝাউবন, সাজানো বদ্বীপ,
সুনামী যখন আসে কে আর খেয়াল
রাখে ঘরের কাঠামো ?এসো,
সবুজ গালিচা, তাকে তুলে নাও
তোমার উপরে, বিপরীত মুদ্রাযোগে,

এবার রচনা করো দীর্ঘ উপন্যাস !
চলে যাচ্ছো ? যাও !
দরজটা একটু ভেজিয়ে দিয়ে যেও !

এখন আঁধার দরকার,
আমাকে ঘুমোতে হবে ! কতদিন ঘুম
নেই চোখে, অধোজীবনের
পথে এটুকু আশ্রয় থাক !

তোমার সবুজ ব্যাগ নিয়ে যেও, চাবি
রয়েছে সেলফে, ডায়েরিটা
ফেলে যেও না আবার, তোমার সকল
টুকরো টুকরো কথা, জলপ্রপাতের
মত ছটফট, সব রয়েছে ওখানে !

সব নিয়ে যেও
কঙ্কালের মত পড়ে থাকা চিহ্ন সহ

শূন্য ঘরে বড় বেমানান
ঐ সব মুহূর্ত, নিয়ে যেও

যাবার আগে, ঐ দরজাটা...
নীরব তোমার ঘরবাড়ি,
নিকানো উঠোন দিচ্ছে আড়ি
সাঁঝের পুকুর একা একা
ঝিমোয় জলের ত্রস্ত রেখা,

ডেকেছি গোপনে, এসো এসো
সাড়া যে দাওনি ? বুঝি, গেছো
দুপুরের ঘরে চুপি চুপি,
পরকিয়া আজ ক্লান্ত খুব-ই !

মোহন বাঁশিটি কলঘরে,
বোমারু বিমান থরে থরে
তোমার ঘরের সীমানাতে,
দেখেছো, ও নেহা, সন্ধ্যারাতে ?

তোমাকে ডাকছি, শোনো, শোনো
পরকিয়া থাক, অস্ত্র গোনো !

নীরব আমার কথাগুলি
শুনতে পেয়েছে নিত্য ধুলি,
তুমি কি পাওনি, সত্যি, বলো ?
চলো, এইবার, যুদ্ধে চলো !

দুপুরের ঘর ছেড়ে এসো
পরকিয়া সব ছেড়ে এসো !

না-লেখা ডায়েরি থেকে তুলে আনি ভবিষ্যতকথা,
নির্জন স্টেশন, ভেঙে পড়া ডাকঘর,
তুলে আনি আত্মহত্যা, ছল-প্রতারণা,
ঘুঘুদের ডাক, বাঘনখ,
ছাইফুল ফুটে আছে সাদা পৃষ্ঠা জুড়ে,
বাঁ-দিকে নদীর হাতছানি, ঘূর্ণীজলে
ডুবে যাওয়া নৌকোর গলুই, তুলে আনি

তোমার বিবাহকালে এইসব সামান্য যৌতুক
গণবিষাদের লগ্নে দেবো তুলে, নিও !
মাঝে মাঝে নয়, এটা বহুকাল ধরে, আমার, নিজেকে নিয়ে, কিছু উপলব্ধি হয়েছে ! কাউকে বলতে পারি না এই উপলব্ধির কথা !
1. আমি মূলত এক আকাট মূর্খ, আহাম্মকও বটে ! সিলেটিতে যাকে বুরবক বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে আমি তা-ই !
2. আমি অশিক্ষিতও ! ছেলেবেলায় এক ভিক্ষুক বলেছিলো, তোমার কোনো বিদ্যা হবে না ! সেদিন তা স্বীকার করে নিতে না পারলেও আজ টের পাই, আমার কোনো বিদ্যা নাই !
3. আমি আবেগপ্রবণ, অথচ আমার, সে অর্থে, কোনো আবেগও নেই !
4. কাম্যুকথিত আউটসাইডার আমি নই, তারপরও আমি না ঘরকা না ঘাটকা ! শিকড়হীন এক উদ্বাস্তু ! সবখানেই রয়ে গেলাম আউটসাইডার !
5. আমার কাঁধে এক আশ্চর্য মই আছে, যা আমি দেখতে পাই না, অথচ যারা দেখে, তারা এই মই বেয়ে উঠে গেছে অনেক উঁচুতে !
6. আমি সংসারী হতে চেয়ে সংসারী হতে পারিনি, সন্ন্যাসীও নই আমি ! হতে পারার মতো যোগ্যতাই নেই আমার !
7. রসজ্ঞান নেই, শিল্পবোধ নেই, অথচ কলমবাজ হতে চেয়েছি ! এর চাইতে বড় আত্মপ্রতারক কে আছে ?
8. নারী আমার কাছে পরম আরাধ্যা, আরাধনাটাও করা হয়ে ওঠেনি আজও !
9. বন্ধু বলে বুকে জড়িয়ে ধরেনি কেউ, আমিও পারিনি !
10. মা-র স্বপ্ন অধরাই রেখে গেলাম !
লেখাটা পুরোণো, খেলাটাও...
দাহপত্রময় মেলাটাও,

বলিনি তোমাকে ? গোধূলিতে,
শিরা কেটে দেবো, এসো নিতে !

ম্যাজিক জমেছে মঞ্চ জুড়ে
হাততালি আর শিস ওড়ে !

পতাকার নিচে ছিন্নমস্তা
নক্ষত্র ছিলো কি তার হস্তা ?

খেলাটা জমুক, এসো তুমি
জিভ কেটে দেবো, জন্মভূমি,

আমার নীরব মুখরতা !
আমার সরব অচলতা !
দেবো, সব দেবো,
ঘরের কাঠামো
সহ ভিটেমাটি,
পোড়া কাঠ, ছাই,
অস্থি ও মাংস,
এই অন্ধ চোখ,
আব্রুহীন জিহ্বা,
তুলে দেবো হাতে !

লজ্জা, অপমান
প্রভু, দ্রৌপদীর
ছিলো না কখনো !

তুমি জানো সব,
এই বেঁচে থাকা,
মৃতের সমান !
এবার তোমার ঘরে ঢুকিয়ে দিলাম ভাইরাস
এবার তোমার ঘুমেজাগরণে স্বপ্নে ভাইরাস
বিছানায় বাথরুমে আর প্রার্থনায়
ভাইরাস
প্রেমে ও সঙ্গমকালে ভাইরাস

সুখ ও সোয়াস্তি থেকে এবার পালাও
মান ও সম্মান থেকে এবার পালাও
ধর্ম ও সমাজ থেকে রাজনীতি থেকে
মরণ-জীবন থেকে এবার পালাও...
দু-হাতে ভরেছি আজ আকাশনীলিমা
তুমি তার কিছু নাও, হে বালকবেলা !
এই পৃথিবীতে, একদিন, আমি থাকবো না ! এই বেদনা মুছে দিতে চেয়েছো তুমি, তোমার অন্তরের অন্তস্থলে, এজন্যই লিখে রাখো অষ্টোত্তর শতনাম, লিখে রাখো অশ্রু ও পরজন্ম, দু-হাতের তালু ভরে রাখো উষ্ণতা আর বলে ওঠো, বাঁচো...চিতার আগুন, বাঁচো...
হৃদয় টলমলো
বাহির ঝলমলো
বিদ্যুতরেখার মত, চকিত, সে এসেছিলো, আবার কখন গেছে ফিরে, দেবা ন জানন্তি, চিঠি নিয়ে ফিরে আসে চৈত্রের পিওন, ঠিকানা বদল করে চলে গেছে ছায়াপথ ধরে, পাড়ার দাদারা বলে...
এবার শ্রাবণে তাকে দেখি, একা, অস্তাচল পথে, তাকে বলি, সন্ধ্যা, এসো, এসো, অন্তহীন এই ঘরে, রাখো ঐ দুটি পা, জিরোও খানিক,
পৃথিবী বিষাদগ্রস্ত, শিশুদের ঠাঁই নেই, গঙ্গার সন্তান হননের মতো, দেখো,
সকল করুণ দৃশ্য, এই
দৃশ্য গোধূলিরচিত, এই দৃশ্য রাত্রি
পালিত হে...
Never be depressed !
There is LIGHT...
Find it
in your Heart...
গল্পটা যাকে নিয়ে, তাকে দেখিনি কোনোদিন...
অথচ সে আমারই অন্তরবাসিনী, চিরকালের...

এ কথা কি বলা যায় তাকে ?
নন্দনচত্বরে অভাবনীয়ভাবে দেখা হলো তরুণ কথাকার সম্বিত বসুর সঙ্গে, তার আগেই স্কুল থেকে সরাসরি চলে এসেছিলো নন্দিতা ভট্টাচার্য ! সম্বিত আমার ফেসবুকের তরুণ বন্ধু, ভালো লেখে, বলে, অনেকেই আমাকে বলেছেন, দু-একটা বিচ্ছিন্ন লেখা আমিও পড়েছি, তার উপর ভর করে মন্তব্য করা অবিধেয়, বলে, নীরবতার আশ্রয় নিতে হলো, এটুকু বিশ্বাস, সম্বিত অনুধাবন করবে আমার এই অবস্থা !
দেখা হয়ে গেলো দোঁহার-এর কালিকাপ্রসাদের সঙ্গেও ! গৌহাটির ব্যতিক্রম গোষ্ঠীর সৌমেন ভারতীয়, দোঁহার, আসামের ছত্রিয় নৃত্যের অনুষ্ঠান আগামীকাল এখানেই !
তসলিমা নাসরিন আমার প্রিয় লেখিকা বা কবি নন ! তার লেখা আমাকে টানেনি !
তার মানে এই নয় যে, ভারত সরকার তার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে, তাকে সমর্থন করবো ! একজন লেখিকা সরব হয়েছেন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে, তার এই বিরোধিতাকে স্যালুট জানাই ! এই কাজ করা দরকার ছিলো আমাদের, আমরা তা করতে পারিনি, এ আমাদেরই দীনতা !
ভারত সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তসলিমার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রেরই গলা টিপে ধরছে !
আশা করি, সরকারের বোধোদয় হবে একদিন !
হে নৈঃশব্দ ! হে গঙ্গাঘাট !
ট্রামলাইন ! হে হুজুগময়তা ! মার্বেলগুলি গড়িয়ে যাচ্ছে বাজারের দিকে !
অশ্রুহীন কান্না পাশে পাশে
মাদী বিড়ালের মত এগিয়ে যাচ্ছে...

ভ্রুক্ষেপহীন কলকাতা ! তবুও তোমার ঐ ফ্যাকাসে ঠোঁটে চুমু খেতে এসেছি পুনরায় !